শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭

কেমন আছো বন্ধু.... গান : নয়ন

কেমন আছো বন্ধু....?
মনে কি হয় না আমায় একটিবার !!
অথচ কথা ছিল, আসুক বাঁধা যতো,
তুমি আমি কখনো নই হারাবার।।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

এইতো সেদিন তুমি মিথ্যে অভিমানে,
পেরিয়েছ চিরতরে আমার সীমানা।
কতদিন মাস গেল বছর যুগের পরে
অর্ধ যুগ! তোমার চাঁদমুখ দেখিনা।।
প্রতিটি প্রহর জুড়ে, কতটা কষ্টে পুঁড়ে
নিঃস্ব মন! না থাকুক কেউ দেখার।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

কতনা ব্যাকুল ছিলে দেখতে আমাকে,
বিশ্বাস সুখ স্বপ্ন ছিল তোমাতে জমা।
সুখের ভুবন আমার ডুবছে অন্ধকারে
দুঃখবোধ! সেদিন থেকে কেউ বোঝেনা।।
এভাবে কতদিন, সুধী প্রেমের ঋণ
কষ্ট-প্রহর, বড় সাধ জাগে জানার।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭

সূরা আসর

বাংলা উচ্চারণঃ
(১) ওয়াল আসর

(২) ইন্নাল ইনসানা লাফি খুসর

(৩) ইল্লাল-লাজিনা আমানু 
ওয়ামিলুছ ছালিহাতি 
অতাওয়া ছাওবিল হাক্কী 
অতাওয়া ছাওবিছ ছবর।

বাংলা অনুবাদঃ
(১) কসম সময়ের

(২) নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

(৩) তাঁরা ব্যতীত, যারা ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে
এবং পরস্পরকে হকের (সত্যের) দাওয়াত ও ছবরের উপদেশ দিয়েছে।

সংগ্রহ ঃ নাবিক সিনবাদ  'সামহোয়্যার'

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭

বড় ভুল- ও দুঃখ বুঝার মানুষ নাই (গান)

বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে

স্মৃতির পাতা মেলে, মনের দোয়ার খুলে,
তোমার মুখোচ্ছবি দেখছি।
শুভ্র মেঘের ডানায়, ভেসে ভেসে আজো আমি,
তোমার ছবিটি আঁকছি।।
তুমি পূর্ণিমা-চাঁদ হয়ে, আকাশ আলো করে,
আমার দিকে চেয়ে হাসো।
মুক্ত ঝরা হাসি, কত যে ভালোবাসি,
তুমিও কি আজো ভালোবাসো।
কত সুখের দামে, গেলে আমায় ভুলে...!! 
মিলেনা সে হিসেব কোনভাবে...!
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে!!

নীরব রাত্রে ওগো খুলে বাতায়ন,
আকাশ জুড়ে দেখি তোমার কিরণ।।
মনের রাজ্য জুড়ে, তুমিই রূপের রাণী...।।
সুখের ছোঁয়া আজো অনুভবে...।
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে !!

শূন্যতা ঘিরে আজ আমার জীবন,
এর চেয়ে ভালো যদি হয় গো মরণ।।
কতভাবে কতদিন, আমার বুকে মিশে...।।
বেঁচে থাকার স্বপ্ন-আশা দিতে...!
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে!!

____

দুঃখ বুঝার মানুষ নাই

আমি যার কাছে যাই বলবো দুঃখ!!
সবাই বলে সময় না-ই!
কর্ম মন্দ, কপাল পুঁড়া
দুঃখ বুঝার মানুষ না-ই!!

ছিল আমার সুখের একটা ঘ-র
ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল
দুই জনার অন্তর।।
শূন্য ঘরে একলা আমি।।
চোখের জলে বুক ভাসাই!

বন্ধু যদি হইত গো আমা-র
পূর্ণিমাচাঁদ বইত ঘরে
থাকতো না অাঁধার।।
সেই-তো ছিল সন্ধ্যা বাতি।।
সুর করে ডাকতো কানাই।

বইছে বুকে কালবৈশাখী ঝ-ড়
কি বুঝিয়া পাষাণ বন্ধু
করলো আমায় পর।।
নয়ন বলে থাকবে তুমি।।
মিশে আমার কলিজ্বায়।

এই গানটির সুর মিলাতে না পারায় নিচের কবিতাটির জন্ম হয়েছিল।

মনের মানুষ কোথায় পাই

আমি বলবো কি আর 
কার কাছে যাই!! 
সব লোকে কয় সময় নাই!
বুকের ভিতর জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

ছিল আমার সুখের একটা ঘর
ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ 
স'দায় দুই অন্তর।। 
শূন্য ঘরে একলা আমি...।।
চোখেরজলে বুক ভাসাই।
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

বন্ধু যদি হইতো-গো আমার
পূর্ণিমারচাঁদ থাকতো ঘরে
মুছিত সব আঁধার।।
সেই'তো ছিল সন্ধ্যা-বাতি।।
মনসুখে ডাকতো কানাই। 
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

হৃদয় জুড়ে কাল-বৈশাখী ঝড় 
কি বুঝিল প্রাণের বন্ধু
করলো আমায় পর।।
নয়ন বলে থাকবে তুমি।।
মিশে রক্তকণিকা'ই।
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!! 

শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭

ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর

শুনরে আহম্মকের দল তোর নিজের খবর রাখ,
কেন অন্যকে করতে বশ্য সামনে ধর্ম দাঁড় করাস!
সেতো যারযার পূজনীয় শ্রদ্ধেয় অন্তরের বিশ্বাস,
তুইতো মানুষ খোদা নোস কেন মনের খবর চাস!

ধর্মের দোহাই দিয়ে কেন মানুষে করিস বিভাজন,
সবার আগে মানুষ সত্য, মমতায় করে-নে স্বজন।
মানুষের মাঝে আছে তোর ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর,
স্রষ্টাকে খুঁজতে যাবি কোথা ধর-রে তুই মানুষ ধর।

মিছেই করিস'না ভণ্ডামি ধর্মকর্ম মনে শিহরন,
মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি উত্তম বিচার বিচরণ।
মানুষে রাখিস ভালবাসা দশে করবে অনুসরণ,
মানবিক গুণাবলী ধ-র সবুজ রাখ অন্তর মন।

খোদার মহব্বতে মানুষ ভুলে করিস তুই আঘাত,
প্রথম পরিচয় ভুলিস সামনে আনিয়া ধর্ম-জাত!
খুঁচা মেরে পরের বিশ্বাসে লুকাস তুই নিজ স্বভাব,
পুষা জানোয়ার যেন তুই মানুষকে কুপাস পুড়াস।

তোদের মত ভণ্ড ধার্মিক যুগে যুগে নিস কত প্রাণ,
তিলকে তাল করিস তরা বাড়াস সমাজে ব্যবধান
ধর্ম লড়াইয়ে কত মা'র শূন্য বুক আজো রক্তপাত
এইকি ধর্মের ফল ভবে মিথ্যে যুদ্ধে দিতে হয় জান

আয়রে তোরা রাখ বিশ্বাস ধর্মের শক্তিকেন্দ্র অন্তর
মানুষের মাঝে প্রেম খোঁজ সৃষ্টিতে স্রষ্টা পাবি খবর
প্রিয়র প্রিয়কে বাস-ভালো শ্রদ্ধা রাখ মনের ভিতর
মানুষের মাঝে পাবি জানি ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর।

যেমনি ছিলাম আগে

যখন নীরব, নিঝুম রাত্রির
গভীরতা বাড়ে ধীরেধীরে, 
নিকষকালো আঁধারের চাদরে ঢাকা
আমার চারিদিক; 
অন্ধকার ছাপিয়ে
একটা দুটি তারা জ্বলে ঐ আকাশে,
ঝলসান হৃদয়ের গন্ধে মাতাল
ছোটে চলি দিক্বিদিক।

মাটির বুকচেরা রোদ্দুর,
ডাহুকীর চিৎকারে কাঁপে বুক,
বিরহতাপে পাথর অন্তর 
ধূপের ধোঁয়ার মত উঁড়ছে মন;
ঘুরেছি দ্বারেদ্বারে সন্ধ্যা সাজে
কোথাও মিলেনি আশ্রয়,
মিলেনি শান্তি,
পারিনি হতে ল্যাম্পপোষ্টের মতো স্থির! 

অশাসনীয় হৃদয়ের অস্বস্তিকর সময়
যাচ্ছে কেটে দিনযামিনী, 
মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো
আমার ভবঘুরে  জীবনব্যাপী;
নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বে গড়া
আমি ধূমকেতু-নক্ষত্রপতি,
জ্বলছি শূন্যময় রাতের আকাশে
সহস্রাধিক বছর নীরবচারী। 

কত আকুতি, মিনতি ভরা নয়নে
তৃষ্ণার্ত নিবেদন কতজনে,
কেউ বোঝেনি, বলেনি পথিক
এসো স্বপ্নে মোর ঘুমো-ঘরে;
যুগের পথে চলেছি একাই
তবুও দিন যায় রাত্রি আসে-ফিরে, 
নির্ঘুম সকাল, হইনা অবাক নিজ দেখে
যেমনি ছিলাম আগে। 

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৭

মাত্রা শিক্ষা


নয়ন ভাই, শুধু আপনার জন্য এ কবিতাটার ছন্দ নিয়ে সামান্য আলোচনা করি। এটা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রতি মূল পর্বে ৬ মাত্রা আছে, এবং কোনো কোনো স্থানে ৪ মাত্রার একটা অতিপর্ব আছে।

তুমি কাছে এলে / ভালো থাকি আমি -- প্রতি পর্বে ৬ মাত্রা
যতখানি ভালো / থাকা যায় -- ১ম পর্ব ৬ মাত্রা, ২য়টি ৪ মাত্রার অতিপর্ব
এই পৃথিবীর / সবটুকু মায়া -- প্রতি পর্বে ৬ মাত্রা
শুষে নিয়ে তুমি - ৬ মাত্রা
আমার কপোলে / প্রেম দাও - ৬ মাত্রা/ ৪ মাত্রা

কী যে ভালো লাগে - ৬
কী যে ভালো লাগে / তোমার চুলের / সুগন্ধি - ৬+৬+৪
কতটা জীবন / পার করে দিই- ৬+৬
বহতা নদীর / সীমান্তে - ৬+৪

কিন্তু সর্বত্র মূল পর্ব বা অতিপর্বের মাত্রাসংখ্যা ৬/৪ বজায় রাখা সম্ভব হয় নি; অর্থাৎ, ছন্দের দিক থেকে কবিতাটি ত্রুটিপূর্ণ। এটা হয়েছে এ কারণে যে লিখবার সময় আমি মাত্রা গুনে লিখি নি, শুধুমাত্র ছন্দপতন ঠেকিয়ে লিখেছি। ত্রুটিপূর্ণ জায়গাগুলো দেখুনঃ

তুমি এসেছিলে / হঠাৎ করেই ৬+৬ (ৎ-কে একমাত্রা ধরেছি, যদিও সচরাচর এটাকে গোনা হয় না)
বিরান গ্রীষ্মে / বৃষ্টি নিয়ে ৬+৫ (২য়টি অতিপর্ব না, মূল পর্ব)
জানি না আমার / কী হয়েছিল ৬+৫ (২য়টিও মূল পর্ব)
হঠাৎ জীবন / উঠলো জেগে ৬+৫ (২য়টিও মূল পর্ব)

তুমি চলে গেছো / সাথে নিয়ে গেছো ৬+৬
সকল আলো, সবখানি প্রেম ৫+৬
তুমি না থাকলে / আমিও থাকি না ৬+৬
জ্বলেপুড়ে হই বিনিঃশেষ ৬+৫ (এখানে ঃ-কে একমাত্রা ধরা হয়েছে; এটাকেও ৎ বা ং-এর মতো শূন্য মাত্রা ধরা হয়)

এই মাত্রাসংখ্যা এখন ঠিক করতে গেলে কবিতার গতিশীলতা ব্যহত হতে পারে, অনুপযুক্ত শব্দ হয়ত চলে আসতে পারে, যাতে কবিতাটি আড়ষ্টতাপূর্ণ বা আর্টিফিশিয়াল হয়ে যেতে পারে (এখনই যে কবিতা হয়েছে, তা অবশ্য দাবি করছি না)।

আপনার ছন্দজ্ঞান খুব ভালো, আপনার কবিতা পড়লেই বোঝা যায়। গতকাল গদ্যকবিতা সম্পর্কে আমরা আলোচনা করছিলাম, এটাকে তার ধারাবাহিক অংশ হিসাবে ভাবা যেতে পারে। এটাতে কোনো অন্ত্যমিল না থাকলেও এটা গদ্যকবিতা না। এটা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত কবিতা।

(সোনাবীজ বা ধুলোবলি ছাই ভাইয়ের প্রতিউত্তর)

গাড়ি চালানোর সময় অন্যমনস্ক থাকা একদম উচিৎ নয়

আজ মনটা বেশি ভালো মনে হচ্ছিল না। কেমন যেন অস্বস্তিকর মনে হচ্ছিল সবকিছু। কিছুই ভালো লাগছিল না। রাতে ঘুমোতে প্রতিদিন দেরি হয়ে যায়। ফেসবুক, টুইটার, গুগলি, ব্লগ আর নিজের সাইট ঘুরতে ঘুরতে রাতের প্রায় একটা দুটা প্রায় বাজে শুইতে। কোনকোন রাতে চারটাও বেজে যায়, অনেক রাত সকাল হয় নেটে ঘুরতে ঘুরতেই। গতরাত প্রায় সাড়ে চারটার দিকে মোবাইল অফ করে শুয়েছিলাম। সকাল বারোটার দিকে ঘুম থেকে উঠে মুখ ব্রাশ করে গোসল করে পেটে ক্ষুধা থাকার পরও ভাত ভালো লাগছিল না। অল্প কিছু খেয়ে হাত ধোয়ে বসে থাকি। একটা সিগারেট ধরিয়ে বউকে বললাম একটু চা খাওয়াবেন (বউকে মাঝেমধ্যে আমি আপনে করেই ডাকি)। বউ চা করে দিলে চা খেয়ে প্যান্ট আর গেঞ্জি পড়ে বের হই বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে।

গাড়িটি নতুনই পায়, এখনো বছর পার হয়নি। আমার আগের গাড়িটি বেশি ভাঙাচোরা হয়ে গিয়েছিল। তাই সেটা বিক্রি করে এই গাড়িটি কিনেছিলাম মাস দুই আগে। গাড়িটি মিটারবক্স ডিজিটাল। কম দামি গাড়ি হলেও গাড়িটি চালিয়ে খুব ভালোই লাগে। নিজের কষ্টের টাকায় কেনা তাই খুব সাবধানেই চালাই। আজও সাবধানেই চালাচ্ছিলাম। মনটা খারাপ থাকায় মাঝেমধ্যে গতি বেপরোয়া হয়ে যেতো। পরক্ষণেই আবার গতি কমিয়ে চালাচ্ছি। বাসার পশ্চিম দিকের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে ধোপাঘাট ব্রিজে গিয়ে উঠলাম। ব্রিজ পর হয়ে কড়ই গাছ পার হয়ে নাজিরাগাড়ার কাছাকাছি যেতেই গতি তেমন ছিল না, এই ৪০ থেকে ৫০ এমন গতিতেই যাচ্ছি। সামনে অনেকগুলো মহিলা রাস্তার দুই পাশ দিয়ে হাটছে। আমার গতিও তখন একটু কমেছে, যেহেতু দুই পাশ দিয়ে হাটছে সেহেতু অত কমনার প্রয়োজন মনে হয় নি। মাথায় একটু চিন্তা ছিল, মনে মনে ভাবছি গ্রামের বাড়ি দিয়ে ঘুরে আসবো। তাছাড়া মফিজুলের সাথে দেখা করতেই হবে। খুব রোদ ছিল আকাশে। তাই চোখে চশমা ছিল। এই সেই ভেবে ভেবেই চালাচ্ছিলাম গাড়ি।

হঠাৎ হাতের বাম পার্শ্বে একটা পিচ্চি মেয়ে সাত আট বছরের হবে হয়তো। হর্ণ বাজাতেই পিচ্চি মেয়েটি দৌড় দিল, ভাবলাম যাক, বামেই থাকবে, আমি একটু ব্রেকে চাপদিয়ে ডান দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, হঠাৎ মেয়েটি দিক পরিবর্তন করে রাস্তার এপাশ থেকে ডান দিকে দৌড় দিয়েছে, ততক্ষণে গাড়ির একদম সামনে। হাইড্রোনিক ব্রেক আর পিছের ব্রেক একবারে ধরেও আর হল না। গাড়ি ছেছড়ে গিয়ে মেয়েটির সাথে গাড়ির আগার চাক্কা বাজলো, মেয়েটি মাটিতে পড়ে গেল, আমার গাড়িও পড়ে গেল আমার উপর। গাড়ি সহ আমিও অল্প ছেছড়ে গেলাম হয়তো। মেয়েটির জন্য টেনশন হচ্ছিল কিন্তু, লাগলোই শেষ পর্যন্ত। আমাকে স্কুল ফেরত ছেলে গুলি টেনে তুললো। মেয়েটিকে পাশের মহিলারা কুলে তুলে নিয়েছে। মেয়েটি কাঁদছে। আমি কোনরকম উঠে মেয়েটির কাছে গেলাম মাথায় হাত দিয়ে বলছি মা কোথায় ব্যথা পেয়েছো। পাশের মহিলারা বলছে বাপু তুমি চলে যাও, এখানে থাকলে নানাজনে নানা কথা বলবে, তোমার কোন দোষ নেই, আমরা তো দেখলামই। তুমি খুব চেষ্টা করেছো দেখেছি। দেখলাম মেয়েটির তেমন ক্ষতি হয়নি, সামান্য ছাল উঠেছে। আমার বাম হাত কেটে রক্ত পরছে, ডান হাতের কয়েক যায়গায় ছাল উঠে গেছে। সখ করে কিনা স্ট্রিজ পেন্টটি হাটুর ওখানে ছিড়ে গেছে ঘষা লেগে পাক্কার সাথে। মনে হয় অনেক টুকু ছাল গেছে হয়তো, পেন্ট থাকায় ঠিক দেখা গেল না, তবে বুঝা যাচ্ছিল বেশ, সবচেয়ে বেশি ব্যথা পাচ্ছিলাম বাম পায়ের পাতায়। আমি হাটতে পারছিলাম না। তবুও ছাত্রদের সহযোগিতায় গাড়ি তুলে সেল্ফে স্টার্ট দিয়ে চলে আসলাম সেখান থেকে। গাড়ির তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ডিজিটাল মিটারের বারোটা বেজে গেছে। লাইট বক্স ফেটে গেছে। পরে অমনি গ্রামে গিয়ে ঘুরে এসে এখন বাসায় শুয়ে আছি।

তখন বাম পায়ের পাতায় ব্যথা কম মনে হলেও, এখন প্রচণ্ড ব্যথা করছে। সম্ভবত পায়ের পাতার হাঁড় ফেটে থাকবে হয়তো, ঠিক বুঝতেছি না। বাসায় আসার পর বউ অনেকক্ষণ পানি ঢেলে দিল পায়ের পাতায়, শরসে তেল মালিশ করে দিল, একটা মলম লাগিয়ে এখনো মালিশ করছে। মাঝে ছেলেও অনেকক্ষণ পাতা মালিশ করে গেল। বাম পায়ের হাটুতে অনেকটুকু ছুলে গেছে, খুব বেশি ব্যথা লাগছে পাতায়। পায়ের পাতায় ভর দিতে পারছিনা। শরীর কাঁপছে, জ্বর উঠছে মনে হচ্ছে। একটা নাপা খাইলাম।

যা হোক, আল্লহ্ বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছেন এটা অনুভব করছি। আমার দোষ যদিও নেই তবুও আমার কাছে মনে হচ্ছে দোষ আমারও কিছুটা ছিলই। যদি মানসিক অবস্থা ভালো থাকতো, একটু সাবধান থাকতাম তো এমনটা হতো না। আল্লাহ্ মেয়েটিকে বাঁচিয়েছে। নয়তো যদি মেয়েটির মাথায় আঘাত লাগতো তো মরেও যেতে পারতো। যেভাবে পড়েছিলাম তাতে আমার বাম পা ভেঙেও যেতে পারতো। গাড়ির ডিজিটাল মিটার বক্স ফেটে গেছে, যাক, তবুও আমি বেঁচে আছি মেয়েটির তেমন ক্ষতি হয়নি এখানেই শুকরিয়া মহান স্রষ্টায়।

তাই, গাড়ি চালানোর সময় ১০০% মন গাড়িতে রাখে চলাই ভালো। নয়তো দুর্ঘটনা অনেকটা নিশ্চিত। অন্যমনস্ক হয়ে গাড়ি না চালিয়ে কিছুক্ষণ দোকানে বসে, চা খেয়ে আবার না হয় গাড়ি চালানো যেতে পারে। গাড়ি চালানোর সময় মন হাজির রাখুন, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাজনিত কারণ এড়িয়ে চলুন। সবার জন্য শুভকামনা সবসময়।

শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

৮১ বছর বয়সী ইমামকে যৌন হয়রানীর শাস্তি ১৩ বছর

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যে ৮১ বছর বয়স্ক এক কোরান শিক্ষকের ১৩ বছরের জেল হয়েছে।
মোহাম্মদ হাজী সাদিক কার্ডিফের মদিনা মসজিদে প্রায় তিরিশ বছর কোরান শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি চার বালিকার ওপর শাস্তি হিসেবে এই নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
আদালত বলেছে, একজন শিক্ষক হিসেবে হাজী সাদিক তার অবস্থানের সুযোগ নিয়েছেন।
তবে হাজী সাদিক তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি মসজিদের ‘রাজনীতি’র শিকার হয়েছেন।
কিন্তু বিচারক স্টিফেন হপকিন্স কিউসি হাজী সাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শিশুরা আপনাকে শ্রদ্ধা করে ‘চাচা’ বলে ডাকতো। কিন্তু আমার বিচারে আপনি একজন ধূর্ত লোক। আপনার উপরের চেহারার আড়ালে রয়েছে এক অন্ধকার দিক।”
কার্ডিফের উডভিল রোডের মসজিদে হাজী সাদিক পার্ট টাইম ইমাম হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে ১৯৯৬ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ১৩ বছরের কম বয়সী মেয়েদের নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছিল, কোরান পড়তে গিয়ে কোন ভুল করলে তার জন্য শাস্তি দেয়ার ছলে তিনি নির্যাতন চালাতেন। তিনি একটি ছড়ি দিয়ে মেয়েদের হাতে এবং পিঠে আঘাত করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তার নির্যাতনের শিকার মেয়েদের কেউ কেউ বলেছে, এজন্যে তারা ঐ মসজিদে যেতে ভয় পেত। একজন এমনকি আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিল।
নির্যাতনের শিকার কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন যে তারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কাউকে জানাতেও পারছিলেন না। এদের একজন বলেছেন, “আমাদের ধর্মের কারণে এটা প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব মনে হতো।”
আরেকটি মেয়ে আদালতে পড়ে শোনানো এক বিবৃতি জানায়, প্রথম যেদিন সে তার মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে পেরেছিল এবং তাঁর মা এই কথা বিশ্বাস করেছিলেন, সেদিন তার কিরকম ভারমুক্ত মনে হয়েছিল।
“আমাদের পরিবারে সন্মান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই বিষয়ে আমার পরিবার আমার পাশে ছিল।”
সাউথ ওয়েলস পুলিশের ইন্সপেক্টর রব ক্রনিক বলেছেন, ভুক্তভোগী যারা এই ঘটনার বিচারের জন্য এগিয়ে এসেছেন, তারা বিরাট সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।
মুসলিম কাউন্সিল অব ওয়েলসও এক বিবৃতিতে এই মেয়েদের সাহসের প্রশংসা করেছে।সুত্র বিবিসি বাংলা

বুধবার, ৫ জুলাই, ২০১৭

গান : চোখের জলে ভাসি আমি -নয়ন

চোখের জলে ভাসি আমি

চোখের জলে ভাসি আমি...।।
তোমারি আশায়...।
তুমি ছাড়া একা একা বেঁচে থাকা দায়..
বন্ধু ছাড়া একা একা বেঁচে থাকা দায়।।

কত আশা চুপিচুপি মনের ঘরে ছিল...
বন্ধু আমার সব ভুলিয়া দূরে সরে গেল!!
কি কারণে পাগল আমি...।।
জানিল সবাই।
বন্ধু আমায় না বুঝিল হইল বিদায়!!

বন্ধু বিনে একা ঘরে আর কতকাল রবো...,
এই কি ছিল ভাগ্য লিখন দুঃখ কারে কবো।।
তাকে ছাড়া হৃদয় জানি...।।
কাঁদিবে সদাই।
বন্ধু তুমি বড়ই নিঠুর না দেখলা আমায়।।

কত দিনের কতই স্মৃতি মনে পড়ে আজো...,
বন্ধু তুমি কেমন করে আমায় ভুলে থাকো।।
তোমার লাগি দিবানিশি....।।
দুই চক্ষু ভাসাই।।
চাঁদমুখের ওই হাসি ভাসে চোখেরি তারায়।।

শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭

ছেড়ে যেতেই হবে

মেঘে মেঘে ছেঁয়ে আছে আজকের আকাশ,
সূর্য'টা যেন ভয়ে লুকিয়েছে কোথাও, আঁধারে
ঢেকে গেছে রোদ্দুর! ঝলমলে দিনটি নীরব,
মেঘেদের আনন্দ-গর্জনেও আজ সে নিথর!
ভেতর'টা পুড়ছে, অন্তরে কান্না'র ঢেউ ভাসায়ে
চলেছে চক্ষু-নদীর পাড়! কষ্টের, নেই উচ্ছ্বাস।

ছেড়ে যেতে হবে আজ তোমাকে! এ-দূরবাস
কতো'টা বেদনাদায়ক-তা বুঝবে বলো কিভাবে!
ঘিরে চারিপাশ, আগলে রবে স্বজন প্রিয়জন;
ফিরে দেখবার হবে'না সময় পুরনো স্মৃতিপট!
মাতিয়া আনন্দে ঘুরেফিরে, সারাদিন কতভাবে
ভরবে তোমার মন। চক্ষু'জল-ছাড়ি দীর্ঘশ্বাস।

বাঁধভাঙা অশ্রুজলে সিক্ত, কণ্ঠবদ্ধ আর্তনাদ
বুঝবেনা কেউ, জানবে'না কখনও কোন-কালে
হৃদয়ের যন্ত্রণা কতো'টা ব্যথাতুর! কষ্টের জল
দেখবে'না কেউ, ভালোবাসা প্রেমপ্রীতি'র ফল।
কত প্রেম ভেঙে গেলো! কতো প্রেমিক কতকালে
হারিয়ে গেল যুগের ফাঁকে, নিয়ে কত অপবাদ!

আমি'তো সামান্য এক নির্বোধ প্রেমিক ছিলাম!
আপনে বাঁধিয়া অন্তর-মন, ভালবেসেছি-যেভাবে
মায়ের বুকে ঘুমায় শিশু ভাবনাহীন। অবিকল
সঁপেছিলাম তোমাতে আমার এ'জীবন-যৌবন।
ভাবিনি হায়! ছেড়ে যেতেই হবে একদিন, এভাবে
একাকী নিঃসঙ্গতার মিছিলে! ভাবি কি-পেলাম।

সুখে থেকো তুমি। লেগেই থাকুক মনে প্রেমবান,
নতুনত্বে ভরে উঠুক স্বপ্নরা। যেভাবে খুশি সাজাবে
তোমারি কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা। দিও প্রতিজন
সুখ দরশন, খুঁজিলে মন মিলিবে সদাই স্বজন।
আমি অজানায় হারিয়ে যাই, ফিরবো'না তোমাতে
জ্বালা বাড়াতে আর, হোক ইচ্ছে যতো বেগবান।

গন্তব্য

সেদিন তোমার চোখে থাকবে মিনতি,
স্বজনে স্বজনে তুমি খুঁজবে আশ্রয়,
ব্যথাহত কান্না বুকে চোখ খরা চৈতি ;
সে- নিষ্প্রাণ আর্তনাদ মৃত্যু-র বিজয়।
ভয়ে কম্পিত স্ব-বুকে বিলীন সম্প্রীতি,
জীবনের বাঁকে বাঁকে দ্বীন শুধু ক্ষয়,
ব্যর্থতা-র গ্লানি মেখে যেতে যদি হয় ;
কি-করে মিলবে বল খোঁদার মহতী।

এসো-ভালোবাসা খুঁজি স্রষ্টা'র সৃষ্টি'তে,
আপনে আপন ভাবী, রাখি মন তুষ্টি;
ভুলে জাতিভেদ প্রাণে প্রাণ বাঁধি, চিত্তে
খুশি দরশন জনে, পূঁজি নিজ কৃষ্টি।
মনে রেখো, সে গন্তব্য পথে হ-বে যেতে
আসিবেনা কভু ফিরে, সৃজি স্রষ্টা-সৃষ্টি।