বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

আসেন সবাই জেহাদ করি!!

আসুন সবাই জিহাদ করি....!;

কি, উপরের টাইটেল দেখে চমকালেন? এখন তো আর চমকানোর কথা না। আমরা মুসলিমরা তো জিহাদের সাথে খুবই পরিচিত, তাই না? বদরের যুদ্ধ, উহুদের যুদ্ধ কত যুদ্ধ তো আমাদের নবীও করেছেন তাই না? তাহলে আসুন আমরা জিহাদ শুরু করার আগে একটা ছবক নিয়ে নেই।

মুহাম্মাদ সা: এর অনুসারীদের নির্মম অত্যাচার করে তাদের অনেককেই হত্যা করে মক্কার মুশরিকরা। মুহাম্মাদ সা:কেও হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। নিজের মুস্টিমেয় কিছু অনুসারীদের রক্ষা করতে ও ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে মুহাম্মাদ সা: বাধ্য হন মদীনা শহরে আশ্রয় নিতে। সেখানে মুসলিম, খ্রীস্টান ও ইহুদিদের সাথে একত্রে একটি জাতি গঠন করেন তিনি। কায়েম করেন পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম গনতান্ত্রিক সংবিধান মদীনা সনদ। এর কিছু ধারা ছিল নিম্নরূপ:

১। সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, ইহুদি, নাসারা এবং পৌত্তলিকগন সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবেএবং একটি সাধারন জাতি গঠন করবে।

২।মুসলমান ও অমুসলমান বিভিন্ন সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করবে। কেহ কাহারো ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করিতে পারিবে না।

৩।ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য অপরাধীই দায়ী হবে। তার সম্প্রদায় নয়।

৪।দুর্বল ও অসহায়দের রক্ষা করতে হবে তারা যে ধর্মেরই হোক না কেন।

বদরের যুদ্ধ হয় মক্কায় থাকা মুসলিমদের সম্পদ পাচার হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু উহুদের যুদ্ধই ছিল মদীনা রাস্ট্রের অস্তিত্বের প্রতি প্রথম হুমকি। সেই উহুদের যুদ্ধে মক্কার মুশরিকরা মদীনা দখল করে মুসলিমদের ধরাপৃস্ঠ থেকে মুছে ফেলতে অগ্রসর হয়।তারা যদি সেদিন মদীনা দখল করতে পারত, তবে মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে মদীনার অন্য সব ধর্মের লোকদের উপরও তারা গনহত্যা চালাত। শিশু নারী কেউই বাদ যেত না। সেদিন মুসলিমরা সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করে রক্ষা করেছিলেন মদীনাকে। রক্ষা করেছিলেন মদীনার খ্রীস্টান ও ইহুদিদেরকে

মুহাম্মাদ সা: ভিন্নধর্মের মানুষদের বাঁচাতে যুদ্ধ করেছেন? কাফেরদের জীবন বাঁচাতে যুদ্ধ করেছেন? জ্বী, হ্যাঁ। এরই নাম জিহাদ।

মুহাম্মাদ সা: সেদিন বলেন নাই মদীনার খ্রীস্টান ও ইহুদিরা আমাদের কেউ না। মুহাম্মাদ সা: সেদিন বলেন নাই মদীনার অন্য সব ধর্মের লোকদের এখান থেকে তাড়াতে হবে।মুহাম্মাদ সা: সেদিন বলেন নাই আমাদের ৯০ ভাগ মুসলিমদের রাস্ট্রে কোন খ্রীস্টান ও ইহুদি থাকতে পারবে না। তিনি সেদিন ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী রাষ্ট্র বলে মুখে ফেনা তুলেন নি।তিনি সেদিন মুসলমান, ইহুদি, নাসারা এবং পৌত্তলিকদের সম্মিলিত জাতিরাস্ট্রকে বাঁচাতে অস্ত্র ধরেছিলেন।যে জাতিরাস্ট্রে সবার ছিল সমান অধীকার ও স্বাধীনতা

এইবার নিচের আয়াতটা একটু দেখেন:

যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন,তবে (খ্রীষ্টানদের) নির্জন গির্জা,এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।সূরা হাজ্জ্ব- ৩৯

কি আবার চমকালেন? খ্রীষ্টানদের গির্জা, ইহুদীদের উপাসনালয়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়??খ্রীষ্টানদের গির্জা, ইহুদীদের উপাসনালকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন? কুরআন বলছে এই কথা? জ্বি, কুরআনই বলছে।

একদল ব্যাক্তি নিচের মত কিছু আয়াত দেখিয়ে ভিন্ন কথা বলার চেস্টা করবে:

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ----- সুরা তাওবা (আয়াত ৫)

কুরানের কোন আয়াতের প্রকৃত অর্থ জানতে হলে তার প্রেক্ষাপট তথা শানে নুজুল জানতে হয়।আমার একজন ক্লোজ ফ্রেন্ড যদি আজ আপনাকে এসে বলে যে, দরবেশমুসাফির বলেছে যে, সে আমাকে মেরেই ফেলবে, তবে আপনার কাছে কি মনে হবে? মনে হবে আমি একজন সন্ত্রাসী, তাই না? কিন্তু ঐ ফ্রেন্ড যদি ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলে যে, আমি দরবেশমুসাফিরের বন্ধু ও সে আমার সাথে মজা করে ওকথা বলেছে, তবে আপনার কাছে কি মনে হবে?এটাই প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব।

এবার ঐ আয়াতের প্রেক্ষাপট তথা শানে নুজুলের মূল কথাটা নিয়ে আলোচনা করি:

কুরানের সুরা তাওবা নাজিলের সময় মক্কার মূর্তিপূজারীরা বা মুশরিকরা মুসলমানদের ধন সম্পদ লুট করছিল। যেখানেই মুসলিম পুরুষ ও নারীদের পাচ্ছিল সেখানেই তাদের নির্মমভাবে হত্যা করছিল। এবার ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্মরণ করুন। পাকবাহীনি কি বাংগালীদের ধন সম্পদ লুট করছিল না? যেখানেই বাংগালী পুরুষ ও নারীদের পাচ্ছিল সেখানেই তাদের নির্মমভাবে হত্যা করছিল না?

অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক-----সুরা তাওবা ৫

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের যেখানে পেয়েছেন সেখানেই হত্যা করেছেন, তাই না??তাদের বন্দী করেছেন এবং অবরোধ করেছেন। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থেকেছেন তাই না?? যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সৃষ্টিকর্তা কি মানুষকে বসে বসে মার খেতে বলবেন??

কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকে যায়। যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ----- সুরা তাওবা (আয়াত ৫)

এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ কি মুশরিকদের মুসলিম হতে বাধ্য করতে বলেননি??এর উত্তর আছে একই সুরার ৬ নং আয়াতেঃ

আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না [সুরা তাওবা: ৬] ...

আশ্রয়? জি আশ্রয়, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আল্লাহ যুদ্ধে কেউ আত্মসমর্পণ করলে তাকে শুধু আশ্রয় নয় নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে বলেছেন। সৈনিকদের স্বার্থরক্ষা করে প্রণীত আধুনিক জেনেভা কনভেনশন ও এতটা উদারতা দেখায়নি।

অর্থাৎ তারা যদি মুসলিম হয়ে যায় তবে ভাল।না হলে যদি তারা আত্মসমর্পণ করে তবে তাদের আশ্রয় দিয়ে, নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে হবে।যারা আপনাকে সুরা তাওবার ৫ নং আয়াত দেখিয়ে ইসলামকে সহিংস প্রমান করতে চাইবে তারাই কিন্তু সুরা তাওবার ৬ নং আয়াতের কথা ভুলেও মুখে আনবে না।

কুরআনে এধরনের যত কনফিউজিং আয়াত তারা দেখাবে সবগুলো আয়াতের শানে নজুলেই নিহিত আছে খটকার অবসান। আজ তারা বলে কুরআনের উপর তাদের নাকি অগাধ জ্ঞান। অথচ শানে নজুল সম্পর্কে তাদের কোন ধারনাই নেই।কুরআন পড়া শুরু করার সময়ই শানে নজুল কি তা আমি জানতাম। অথচ এরা এত গবেষনা করেও তা জানে না।

এতক্ষন ধরে তারা, তারা করে আসছি। এই তারা কারা? ইসলামবিদ্বেষী?

আমি এখানে তারা বলতে ইসলামবিদ্বেষী ও জঙ্গীবাদী দুধরনের লোকের কথাই বলছি।আবার চমকালেন?

ইসলামবিদ্বেষীরা কুরআনকে সহিংস গ্রন্থ মনে করে, জঙ্গীবাদীরাও তাই মনে করে।ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামকে যুদ্ধের ধর্ম মনে করে,জঙ্গীবাদীরাও তাই মনে করে।ইসলামবিদ্বেষীদের কুরআন সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই, কিন্তু দাবী করে যে তাদের এ ক্ষেত্রে অবাধ জ্ঞান আছে, জঙ্গীবাদীদেরও কুরআন সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই, কিন্তু তারাও দাবী করে যে তাদের এ ক্ষেত্রে অবাধ জ্ঞান আছে।এবং এরা সবসময়ই এগুলো প্রমান করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে।

জঙ্গীবাদিরা যেমন আজকের অশান্তি সৃস্টি করার জন্য দায়ী তেমন এই ইসলামবিদ্বেষীরাও সেই অশান্তি জিইয়ে রাখার জন্য দায়ী।এদের কারনেই ইসলামের প্রথম যুগে যেভাবে নিরিহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল এখনও তাই হচ্ছে।তখন যেভাবে মুসলিমদের ধরাপৃস্ঠ থেকে মুছে ফেলার চেস্টা হচ্ছিল, মতাদর্শগতভাবে এখনও তাই হচ্ছে। তবে কেন এখনও জিহাদ করব না? জিহাদ মানে কিন্তু যুদ্ধ নয়। এর মানে আপ্রান প্রচেস্টা।বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসলামের নামে চলতে থাকা অরাজকতা বন্ধে আপ্রান প্রচেস্টা চালানোই হবে এ যুগের জিহাদ।

মুসলিমদের আবার জিহাদ করার সময় এসেছে। মুহাম্মদ সা: দেখানো পথে জিহাদ করার সময় এসেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মুহাম্মদ সা: এর অনুসারী।আমরা নারী, শিশু হত্যাকারী ওসামা বিন লাদেন, আবু বকর আল বাগদাদীর অনুসারী নই।আমরা নারী, শিশু রক্ষাকারী দেশপ্রেমিক মুহাম্মদ সা: এর উম্মত।আমরা যদি জিহাদ করি তবে তিনি যেভাবে জিহাদ করেছেন আমরা সেভাবেই করব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ ক্ষতবিক্ষত। ভিন্নধর্মালম্বী ভাই, নাস্তিক, মুসলিম এমনকি সাধারন মানুষ আজ অত্যাচারীত।আজ যদি আমরা মদীনার মতই আমাদের বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র রক্ষা করতে এগিয়ে না আসি তবে হাশরের ময়দানে এদেশের প্রত্যেক মুসলমানকে জবাবদিহি করতে হবে।

তাই আসুন আমরা জিহাদের শপথ নেই। আমাদের দেশে আর একজন নিরিহ মানুষের মৃত্যুও যেন না হয়। আমাদের দেশের প্রত্যেক ভিন্নধর্মালম্বী ভাই যাতে নিজ নিজ ধর্ম শান্তিতে পালন করতে পারে। আর একজন জঙ্গীও যাতে তৈরী না হয় সেজন্য আসুন আপ্রান প্রচেস্টা চালাই। আজ রাসূলুল্লাহ সা: এর আদর্শ, তাঁর শিক্ষা, দেশাত্মবোধের বার্তা হারিয়ে যেতে বসেছে। আমরা সেটা আবার ফিরিয়ে আনব ইনশাআল্লাহ।

মতাদর্শগতভাবে যেসকল ইসলামবিদ্বেষীরা মূলত জঙ্গীবাদীদেরকেই ইন্ধন দিয়ে আসছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কলমের লড়াই চালাব। ইসলামকে নিয়ে সকল অপপ্রচারের বুদ্ধিদীপ্ত সত্য জবাব দেব।

আর এই লড়াইয়ে যদি আমাদের জীবন চলে যায় তবে আমরা হব শহীদ।সফল হলে গাজী।হয়, শহীদ নয় গাজী। এঁদের প্রতি আল্লাহর অসীম দয়ার কথা আমরা যেন ভুলে না যাই। মুসলমান হিসেবে আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবনা। আমরা কারো ভয়ে লুকিয়ে থাকবনা। কারো ভয়ে আত্মগোপন করব না। জঙ্গীবাদীদের বোমা,বন্দুক আমাদের কাছে তুচ্ছ। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনা যে তার আবার কিসের ভয়?ইসলামের প্রথম যুগের সাহাবীরা যেভাবে সফল হয়েছিলেন, আমরাও সেভাব সফল হব ইনশাআল্লাহ।

তাই আসুন আমরা জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আল্লাহু আকবার।

মিথ্যা তো মুছে যাবেই, এর প্রকৃতিই তো মুছে যাওয়া। - কুরআন 

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭

আগের সেই আমি

যখন নীরব, নিঝুম রাত্রির গভীরতা বাড়ে ধীরেধীরে,
নিকষকালো আঁধারের চাদরে ঢাকা আমার চারিদিক;
অন্ধকার ছাপিয়ে একটা দুটি তারা জ্বলে ঐ আকাশে,
ঝলসান হৃদয়ের গন্ধে মাতাল ছোটে চলি দিক্বিদিক।

মাটির বুকচেরা রোদ্দুর, ডাহুকীর চিৎকারে কাঁপে বুক,
বিরহতাপে পাথর অন্তর ধূপের ধোঁয়ার মত উঁড়ছে মন;
ঘুরেছি দ্বারেদ্বারে সন্ধ্যা সাজে কোথাও মিলেনি আশ্রয়,
মিলেনি শান্তি পারিনি হতে ল্যাম্পপোষ্টের মতো স্থির!

অশাসনীয় হৃদয়ের অস্বস্তিকর সময় যাচ্ছে কেটে দিনযামিনী,
মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো আমার ভবঘুরে  জীবনব্যাপী;
নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বে গড়া আমি ধূমকেতু নক্ষত্রপতি,
জ্বলছি শূন্যময় রাতের আকাশে সহস্রাধিক বছর নীরবচারী।

কত আকুতি, মিনতি ভরা নয়নে তৃষ্ণার্ত নিবেদন কতজনে,
কেউ বোঝেনি, বলেনি পথিক এসো স্বপ্নে মোর ঘুমো-ঘরে;
যুগের পথে চলেছি একাই তবুও দিন যায় রাত্রি আসে-ফিরে,
নির্ঘুম সকাল হইনা অবাক নিজ দেখে যেমনি ছিলাম আগে।

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

সত্যের মদ

আমি ব্যর্থ নই, হয়ে গেছি আজি উম্মাদ,
বড্ড মাতাল আজ আমি, তাই বেসামাল।
বুকে আমার দারুণ তৃষ্ণা সত্যকে জানার,
বিবেক কবর দিয়ে কেমনে করে অনাচার!
মাতাল হতে করো না মানা হইনা বেখেয়াল,
মন ভরে খেয়েছি সত্যের মদ আমি আজ।

স্বার্থ পূজারী সকল মানুষ নির্বাসিত সমাজ,
মিথ্যের জয় ধ্বনি নাই সত্যের কোন সম্মান।
মিথ্যের বিড়ে সত্য যেন হয়েছে কোণঠাসা,
সত্যতায় চললে সমাজ দেয় উপাদি বোকা!
উপহাস করে বলে দেখ যায় ওই বোকারাম
সমাজ অন্ধ তাই বোঝে না সত্যবাদীর মান।

বড় কঠিন, বড় কণ্টকময়, ব্যথা পদেপদে
আসে আত্মতৃপ্তি ভুবনজয়ী সত্যের পথ ধরে।
মরণ যদি হয় নিয়েছি শপথ সত্যের এ'পথে
এই জীবন করবো দান, মরবো হেসে হেসে।
যাবো এগিয়ে নির্ভয়ে থেকে লোভের উর্ধ্বে
আসুক বাঁধা যত আর পাগল বলুক লোকে।

শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৭

শূন্যতায় ভাসি

কেউ জানলো না, বুঝলো না কভু আমাকে
হাশি মুখে চলেছি মিশে সবাতে সমান তালে।
সুখী মানুষের অভিনয়ে বড্ড ক্লান্ত যে এখন
নীড় হারা মনে দুঃখ কষ্টের অমানবিক যুদ্ধে।

সূর্যের উদার ভালোবাসায় আলোকিত ভুবন,
নীরব রাতের আকাশে সোনালী চাঁদের কিরণ।
যুগের সমান তালে মন থেকে মনে ভালোবাসা,
সতেজ করে জাগায় যেন একটু বাঁচার আশা।
বেঁচেই আছি আমি শূন্যতায় প্রকৃতির নিয়মে,
অামার অাশা নেই ভালোবাসা গেছে হারিয়ে।

শুষ্কতায় যেনো আজ সাহারা মরুভূমি অন্তর,
বিরহ পর্বতসদৃশ দেখে'না পোড়ায় জঠরানল।
বড্ড ভারি মনে হচ্ছে আজ জীবনের এ বুজা,
এ কেমন জীবন এ কেমন আমার বেঁচে থাকা!
নেই কোন বন্ধু আজ মনের এই বিষণ্ণতা বুঝে,
বিধাতাই বুঝি ভাগ্যে রেখেছেন এই কষ্ট লিখে।

বুঝার মতো আমাকে একজনই ছিল এ ভবে,
বিধাতা কোন ভুলে সব সুখ নিয়েছেন কেড়ে।
বড় একা আমি, সঙ্গী হারা নিঃসঙ্গতায় এ'মন,
শূন্যতায় ভাসি প্রতিনিয়ত দাবিত মৃত্যুর পথে।

শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

বলাৎকার, মাদ্রাসা শিক্ষকদের দ্বারাই কেন হবে এত

গত কয়েকদিন আগে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম বলৎকার করে গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়া এক মাওলানার খবর শুনে। তো, সে পোষ্টে অনেক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, পরামর্শ দিয়ে কেউ কেউ বলেছেন, রকস্তায় গো দেখলে তা ঢেকে রাখাই ভালো, তা নিয়ে কথা বললে দুর্গন্ধ ছড়াবেই। আমি মাওলানা কে গো-এর সাথে তুলনা করি না, সে যতো সহজে তা বলে গেলেন! আমি এত সহজে একজন মাওলানাকে এমন জিনিশের সাথে তুলনা করতে রাজি নই।

আমার কথা হচ্ছে, আর কতদিন চুপচাপ থেকে এইসব জঘন্য কাজের মানুষ গুলো কে লুকিয়ে রাখবেন। একজন ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ যদি এমন জঘন্য কাজে লিপ্ত হতে পারে তাহলে বোঝাই যা তার মধ্যে মানবিকতার ছিটেফোঁটাও নেই। অথচ আমরা সেইসব জঘন্য মানুষদের প্রতি মানবিকতার দোকান খুলে বসে থাকি। কেন, এ কি কেবল তারা ইসলামী শিক্ষায় বিজ্ঞ বলে? একজন মাওলানা বলেই তার অপরাধ লুকিয়ে রাখতে হবে? আমি কোন মতেই সেইসব জঘন্য মানুষদের প্রতি মানবিকতা দেখাতে রাজি নই। তাদের জন্য শুধু ঘৃণা ছাড়া সামান্য সম্মানও নেই অবশিষ্ট।

গতকাল নেট সার্চ দিয়ে যতগুলো বলৎকারের সংবাদ পেলাম তার মধ্যে একটা বলৎকারও হুজুর ছাড়া নেই। সবাই ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত। কেউ কেউ তো কোরআনের হাফেজ! আর সবগুলো ঘটনার বৃত্তান্ত পড়লে তাদের জন্য ঘৃণা ছাড়া কিছুই আসে না মনে। এরা আমার কাছে কুত্তার চেয়েও খারাপ।
নিচে সার্চ দিয়ে পাওয়া শিরোনাম ও দুই লাইন করে তুলে দিলাম। দেখুন আর ভাবুন, এদের প্রতি মানবিকতা দেখিয়ে লুকিয়ে রেখে আমরা ভুল করেছি নাতো....?

১/ www.prothom-alo. com / ১০-০৭-২০১১ইং প্রকাশ / শিরোনাম / "ছাত্রকে যৌন নির্যাতন, মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে-প্রথম আলো"

বৃত্তাংশ - ছাত্রকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে পুলিশ এক মাদ্রাসা শিক্ষক ( জাকির হোসেন '৪০')কে গ্রেফতার করেছে। আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।.....

২/ www.dhormockery. com / ১৪-০৭-২০১১ইং প্রকাশ / শিরোনাম -"ইসলামী ইতরামি-এক হালি"

বৃত্তাংশ - প্রথম আলোর খবর : ছাত্রকে যৌন নির্যাতন, মাদ্রাসা শিক্ষক.... জাকির গত রোববার আরও একটি ছেলেকে বলৎকার করে বলে স্বীকার করেছেন।

৩/ www.banglanews24. com / ২৫-০২-২০১২ইং প্রকাশ /

বৃত্তাংশ - সোনাপুর দারুল ইহসান ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আবদুস সালাম (৩২)কে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী আটক ও গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।.... সম্প্রতি মাদ্রাসার একাধিক শিশুকে তিনি বলৎকার করলে অবিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।.....

৪/ www.amaderbarisal. com / ০৩-০৭-২০১২ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "গৌরনদীতে ছাত্রকে নির্যাতন, মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে -আমাদের বরিশাল"

বৃত্তাংশ - ছাত্রকে নির্যাতন করার অভিযোগে গৌরনদী থানা পুলিশ হাফেজ মোঃ মহসিন (৩৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। হাফেজ মোঃ মহসিন টরকী বন্দর আদর্শ জামেমসজিদের সহকারী ইমাম ও টরকী বন্দর আদর্শ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।....

৫/ www.banglanews24. com / ১৬-০৭-২০১২ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "শিশু নির্যাতন : ঝিনাইদহে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার"

বৃত্তাংশ -.... ঝিনাইদহে আল-ফারুক একাডেমী মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বলৎকারের ঘটনায় রোববার দুপুরে হাফেজ মোঃ হাসানুজ্জামান হাসান (২৮) নামে এক শিক্ষককে আটক.....। আটক হাসানুজ্জামান হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলা নিউজকে জানান, বিষয়টি এত জানাজানি হবে তা তার জানা ছিল না।....

৬/ m.somewhereinblog.net >blog.awalrock's / ২৬-০২-২০১৩ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "মাদ্রাসা যেখানে চলে শারীরিক নির্যাতন পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন"

বৃত্তাংশ - গত কয়েক বছর আগে খুলনাতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে শিক্ষক বলৎকার করে। এর পর ছাত্রটি ঐ কাহিনী সবাইকে বলার হুমকি দিলে শিক্ষক.....

৭/ www.djanata. com / ০৫-০৬-২০১৩ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "ফরিদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু -দৈনিক জনতা"

বৃত্তাংশ - স্থানীয়দের অভিযোগ মোবাশ্বেরকে বলৎকার করে হত্যা করার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে.....

৮/ www.risingbd. com / ১৪-০৮-২০১৩ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার"

বৃত্তাংশ - এলাকার মসজিদের ইমাম জানু মুন্সী তাকে বলৎকার করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।....

৯/ www.amadernabiganj. com / ০২-০২-২০১৪ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "নবীগঞ্জের সদরাবাদ গ্রামে এক নরাধম শিক্ষকের কাণ্ড।কিশোর রোমনকে বলৎকার করে ধরাশায়ী যৌন হয়রানীর নায়ক সাজ্জাদের শাস্তি দাবী।"

বৃত্তাংশ - নবীগঞ্জ এক হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকের কাণ্ড। শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র নির্যাতন এমনকি বলৎকার সহ অভিযোগের শেষ নেই গুনধর শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই সমালোচিত ঘটনাটি ঘটেছে হযরত শাহ সদর উদ্দিন কোরেশী (রহঃ) পিটুয়া (সদরাবাদ) হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রকে বলৎকার ও অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।....

১০/ www.natunbarta. com / ২১-১০-২০১৪ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "বলৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করে বাবুর্চি।"

১১/ www.nayajug. com / ৩০-১২-২০১৪ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে শিক্ষক গ্রেফতার।"

বৃত্তাংশ - ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে এক মাদ্রাসা শিক্ষক (আব্দুস সবুর '৩৮') কে স্থানীয় জনতা মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।....

১২/ www.abnews24bd. com / ০৯-০৮-২০১৫ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "ছাত্রকে বলৎকারক অধ্যক্ষ জব্বার গ্রেফতার"

বৃত্তাংশ - গত ২৩ মে তারিখে মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল জব্বার তার এক ছাত্রকে বলৎকার করে নগরীর নাসিরাবাদ মীজ বাহুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ....
শিশু ধর্ষক ও তালিকাভুক্ত অপরাধী আব্দুল জব্বারকে অবশেষে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে বায়েজীদ থানা পুলিশ। শিশু বলৎকারের ঘটনায় আগেও তাকে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে....

১৩/ www.sangbadnarayanganj. com /
১৭-০৪-২০১৬ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "ফতুল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলৎকার"

বৃত্তাংশ -..... ছেলেকে জোর পূর্বক বলৎকার করে ওই শিক্ষক। পরে এ কথা কাউকে বল্লে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করার হুমকি দেয়া......

১৪/ www.bangladeshbartabd24. com / ১৭-০৪-২০১৬ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "শিক্ষক কর্তৃক মাদ্রাসা ছাত্র বলৎকারের শিকার;"

বৃত্তাংশ - ফতুল্লা থানার মাসদাইর বাড়ৌইভোগ এলাকার মাদ্রাসাতুল মদীনা'র শিক্ষক কর্তৃক ১০ বছরের ছাত্র বলৎকারের শিকার হয়েছে। বলৎকারে শিকার মাদ্রাসা ছাত্র আলীফকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টায় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা রুহুল আমীন এ ঘটনা ঘটায়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে এলাকাবাসী শিক্ষক মাওলানা রুহুল আমীনকে গণধোলাই দিয়ে বেঁধে রাখে।.....

১৫/ dailyjanakantha. com / ০৫-০৬-২০১৬ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "মুন্সীগঞ্জে ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার"

বৃত্তাংশ - মুন্সীগঞ্জে ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার.... আনাসকে (১১) গত দুই মাস ধরে যৌন নিপীড়ন করে আসছিল।.....

১৬/ www.dainikshiksha. com / ০৬-০৬-২০১৬ইং প্রকাশ / শিরোনাম - "ছাত্র বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার"

বৃত্তাংশ - মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাবেরচরে 'আবদুল্লাহপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা'র এক শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে একই মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারি হায়দার আলী(২৪)কে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।....

১৭/ www.aporadhbani. com / ২৮-০৭-২০১৬ইং প্রকাশ / শিরোনাম -"সিলেটে মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলৎকারে শিকার"

বৃত্তাংশ -...... অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র আশিকুল ইসলাম (১২)কে দীর্ঘ ৩/৪ মাস থেকে বলৎকার আর যৌন নির্যাতন করে আসছিল....

১৮/ www.fns24. com / ১০-০১-২০১৭ইং প্রকাশ / শিরোনাম -"সিরাজগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্র বলৎকার, শিক্ষক আটক"

বৃত্তাংশ - সিরাজগঞ্জ কামারখন্দে হাফিজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ৮ বছরের শিশু ছাত্র বলৎকারের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে উপজেলা বিয়াড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ৮বছরের শিশুকে বলৎকার করে শিক্ষক শাহ আলম (৩৮).....

১৯/ m.u71news. com /  ১৬-০১-২০১৭ইং প্রকাশ / শিরোনাম -"সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলৎকার : গ্রেফতার-১।"

বৃত্তাংশ - সোনাগাজীতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মাদ্রাসা ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে আব্দুল খালেক (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।......

২০/ dainiksamakal. com / ০৮-০৩-২০১৭ইং / শিরোনাম -"ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক।"

বৃত্তাংশ - এবার চাঁদপুরে ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর ডিসি অফিস সংলগ আল করিম দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায়। কোরআন বিভাগের ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষক মোঃ মোক্তার হোসেনকে আটক করে এলাকাবাসী, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

শিশুটি জানায়, ১০/১২ দিন যাবত রাতে ঘুমালে মোক্তার হুজুর আমার মুখে চাপা দিয়ে খারাপ কাজ করতো। আমি কাউকে একথা বললে আমার মা বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিত মোক্তার হুজুর।.....

-------
একবার সার্চ দিয়েই উপরোক্ত সংবাদ গুলি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাই মাত্র তিন পৃষ্ঠায়। আরও কত আছে কে জানে।

হাইরে শালার ভণ্ডের দল!!!!!!

বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

দেশের ক্ষতি আমার দ্বারা হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের ক্ষতি আমার দ্বারা হবে না: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবেন না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি এনিয়ে বিএনপির বিরোধিতাকে আমলে নিচ্ছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বহুল আলোচিত ভারত সফরের দুদিন আগে বুধবার তিনি তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলবে, নিজের বিবেক যদি ঠিক থাকে, দেশপ্রেম থাকে, আমার দেশের ক্ষতি অন্তত আমাদের দ্বারা হবে না।”

আগামী শুক্রবার চার দিনের সরকারি সফরে ভারত যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের সঙ্গে ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো আগেই জানানোর দাবি তুলে বিএনপি বলেছে, ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থ হানিকর চুক্তি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশ বেচে দেবে…কী চুক্তি করবে…এই চুক্তি হলে মানব… ওই চুক্তি হলে মানব না…কে তারা? কী মানলো না মানলো, কার কী আসে যায়?”

১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং তার আগে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নিয়ে বিএনপির সমালোচনার কথাও বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “এক সময় বিএনপি নেতারা এটাকে গোলামীর চুক্তি বলত। তারপর দেখা গেল, সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ লাভবান। গোলামী না, বরং অনেক জমি অনেক কিছু বাঙালিরা পেয়েছে।”

১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তির আওতায় দুই দেশের ছিটমহল সমস্যার সমাধান ঘটেছে আওয়ামী লীগের এই আমলে।

বঙ্গবন্ধু সরকার আমলে ওই চুক্তির পর বাংলাদেশের কোনো সরকাররেই স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে অগ্রসর না হওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

“জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে এই চুক্তির কথা একবারের জন্য ভারতের কাছে তুলে ধরেছে কি? সাহসই পায়নি।এরপর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায়, সেও কোনো দিন তোলেনি।”

“তাহলে দালালীটা কে করেছে,” সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজেরা করতে পারবে না। আবার অন্যরা করতে গেলে শর্ত দিবে, তা হয় না।”

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই মামলা করে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো একের পর এক অধিকার আদায় করে নিচ্ছি।”

‘যাদের দায়িত্ব নেই, তারাই কথা বলে বেশি’

জঙ্গি দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে এই বাহিনীর অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরামহীন কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার খারাপ লাগে এই যে দিনরাত পরিশ্রম করা..সব সময় একটা চাপ মাথায় নিয়ে কাজ করা।

“প্রশংসা করবে,সাধুবাদ দিবে,উৎসাহ দিবে.. তা না করে এটা হল না কেন, ওটা হল কেন? এটা হলে ওটা হত। নানা জ্ঞান ছড়াতে থাকে। যাদের দায়িত্ব নেই তারা অনেক কিছুই বলতে পারে।”

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পুলিশ উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বেশি সফলতা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

“উন্নত দেশগুলোতেও দেখলাম না, ঘটনা ঘটার আগে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে যাচ্ছে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তাদেরকে তারা কিন্তু এ পর্যন্ত ধরতে পারেনি। এই দৃষ্টান্তটা আমরা বাংলাদেশে দেখাতে পেরেছি।”

অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল ইসলামসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকার টাকার চেক প্রদান করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান। 

-

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 

Published: 2017-04-05 16:34:02