সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

সাধের সময় যায় বিফলে

আষাঢ় মাসের ভরা নদী, নয়া গাঙ্গের পানি,
বন্ধু তুমি থাকতে যদি খেলতাম নাউ দৌড়ানি।
পূবাল হাওয়ায় মনের সুখে,
গান ধরিয়া পাল উঁড়িয়ে।
জল-তরঙ্গে নাচত হিয়া আসতো যৌবন গতি,
ডুব-সাঁতারে ক্লান্ত হইতাম মন চাইতো যখনি।

পূবাল বাতাস গাঙে তুলে উতাল-পাতাল ঢেউ,
যৌবন সুখে নাচছে পানি একবার দেখে যেও।
তোমার তরে মনটা অবুঝ,
হৃদয় জুড়ে প্রতীক্ষা সুখ।
কষ্ট-প্রহর মনের ব্যথা বুঝল না হায় সে-ও,
বসন্ত দিন যায় ফুরিয়ে নেয় না খবর কেউ!

কত সাধের এই দুনিয়া! মনের মানুষ ছাড়া,
স্বপ্ন শোকে নির্ঘুম রাত, চোখে শ্রাবণ ধারা!
ঝাপসা লাগে পূর্ণিমা চাঁদ,
গাঁয়ের লোকে দেয় অপবাদ!
অহংকারী আমি নাকি! কারো সাথে মিশি'না,
বোকা-নির্বোধ অনেকে বলে সেতো তার ছেড়া!

কল্প আশায় স্বপ্ন বুনি করবো বসত সুখে
রাখছি কতই ভালোবাসা এই হৃদয়ে পুষে।
দুজন মিলে বাঁধিব ঘর,
ওই পরাণে রাখি অন্তর।
নিত্য-প্রহর তারই ছবি আমার দুটি চোখে,
সাধ মিটে'না একলা ঘরে মরছি প্রেম বিষে।

ঢেউয়ের মত বারে বারে মনে পড়ে বন্ধুরে,
সুখস্মৃতিতে কষ্ট বাড়ে বসলে নদীর পাড়ে।
নাইরে কোথাও সুখের দেখা,
প্রাণের বন্ধু সে-ও বোঝে না!
সাধের সময় যায় বিফলে বন্ধু অনেক দূরে,
মরব যেদিন কাঁদবে সেদিন আসবে তুমি ফিরে।

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

এইতো জীবন!!

বাজান, গত দুপুরবেলা অল্প কিছু ভাত খেয়েছিলাম দক্ষিণ পাড়ার সোলায়মানদের ঘরে। রাতে বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার কুড়ে ঘরের মেজে পানি, চুলা পানির নিচে। রাতে আর পাক করে খাওয়া হয়নি। বাড়ি ফেরার সময় পথে পাওয়া একটা পানির বোতলে কলিমদের টিউবয়েল থেকে পানি নিয়ে গিয়েছিলাম। তাই পেটপুরে খেয়ে রাত কাটিয়েছি। কতবাড়ি পার হয়ে এলাম, কারো কাছে দু মুঠো ভাত চাইতে সাহস করিনি। এখন বড্ড অসহ্য লাগছে, তাই এখানে বসতে চেয়ে পড়ে যাই, উঠতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শুয়েছিলাম এখানেই। চলে যাচ্ছি বাবা। এই বলে সত্তর ঊর্ধ্ব শীর্ণকায় শরীরের বৃদ্ধটি পাশে থাকা লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করতেই আবারো পড়ে যায়। জীবন হাত বাড়িয়ে চেষ্টা করেও বৃদ্ধ ভিক্ষুকটিকে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারলো না। পড়ে যাওয়া বৃদ্ধের হাত আর পাজর ধরে কোনরকম তুলে বসায় তার চেয়ারে।

আপনে বসেন বাবা, আমি দেখি আপনাকে কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি কিনা। ক্ষুধার্ত ছলিমউদ্দিনের মুখে সামান্য হাসি অনুভূত হল জীবনের কথা শুনে। জীবন বাড়ির ভিতর গিয়ে তার বউকে বলে কোনরকম একথাল ভাত আর তাদের খেয়েদেয়ে বেশি হওয়া তরকারি নিয়ে বাহিরে এল। জীবনের পিছুপিছু তার মেজো ছেলে একটা বস্তা নিয়ে দাঁড়ায়। জীবন ছেলের কাজে খুশি হয়ে ছেলেকে চুমা দিয়ে বস্তাটি মাটিতে পেতে ভিক্ষুক চাচাকে ধরে সেখানে বসিয়ে বলে, চাচা, আমারা কিছুক্ষণ আগেই খেয়েদেয়ে যা ছিল তাই আপনার জন্য এনেছি। আপনি একটু কষ্ট করে খান চাচা। বৃদ্ধার মুখে হাসি ফোটে উঠে। হ্যা বাবা, খাবো, মন ভরে খাবো, আল্লাহ্ তোমার ভালো করুক। বৃদ্ধ ছলিমউদ্দিন ভাত খাচ্ছে। জীবন আর তার ছেলে পাশে বসে দেখছে। কি ক্ষুধার্ত! মুহুর্তেই একথাল ভাত খেয়ে ফেললো! চাচা, আপনার ছেলে মেয়ে নাই? জীবনের প্রশ্নে ছলিমউদ্দিনের চোখে হতাশার ছাপ, দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, বাবারে, ছেলেমেয়ে ছিল, এখন নেই!
তারা কোথায় চাচা?
তারা এখন বড় হইছে, শহরে থাকে। একটামাত্র ছেলে আমার। খুব কষ্টকরে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছিলাম। মানুষের বাড়িতে কাজ করে, ভিক্ষে করে ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার চেষ্টা করেছিলাম। ছেলে, খুউব শিক্ষিত হয়েছে। বড় চাকরি করে, শহরে থাকে, গাড়িতে চড়ে। কিন্তু বাবা...! কথাটুকু বলে বৃদ্ধের কেমন যেন উদাসী অবস্থা। চোখে মুখে হতাশার ছাপ, অতৃপ্ত মনের ক্ষোভ দুঃখ যেন চোখবেয়ে নামতে চাইছে। কোনরকম নিজের চোখ মুছে ছলিম উদ্দিন বলে, আর মেয়ে মাশাল্লাহ্ ভালো ঘরে বিয়ে হয়েছে। তার জামাই বিদেশে চাকরি করে। মেয়েকেও সাথে নিয়ে গেছে বিদেশে। তোমার চাচী মারা যাবার পর ওই হাওড়ে একজনের পতিত জমিতে কোনরকম একটা শুয়ে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।
বৃদ্ধের কথা শুনে জীবন স্তব্ধ হয়ে গেল। ছেলে উচ্চশিক্ষিত, মেয়ে বড়বাড়িতে বিয়ে হয়েছে, সে আবার অন্যের বাড়িতে মাথাগোঁজার ঠাই পাইছে! জীবনের মাথায় কিছু ঢুকছে না। তাই আবারো প্রশ্ন করে, চাচা, ছেলের বাড়ি যেতে পারেননা?
গিয়েছিলাম বাবা! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো।
তয়, আপনার এমন পরিস্থিতি কেন? একটু বিস্ময়ের সাথেই প্রশ্ন করে জীবন।
বাবারে, ভাবছিলাম ছেলের চাকরি হলে আমাদের বুড়াবুড়ির কপালে সুখ হইবো, কিন্তু হয় নাই বাবা! আমরা গ্রামের মুর্খ মানুষ, বয়স হয়ে গেছে। আমরা বাসায় থাকলে ছেলের বউয়ের সাথে ছেলের রোজই ঝগড়া বাঁধে। অনেক কটুকথা শুনেও ছিলাম। কিন্তু, যখন আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করলো ছেলে, তখন আর থাকতে পারিনি। বৃদ্ধাশ্রম না গিয়ে ওই গাঁয়ে এসে দুইজনে পুরনো দিনের মতো জীবন কাটাতে থাকি। রোগে শোকে বুড়িটিও আমাকে ছেড়ে চলে গেল গতবছর। আমি আর এখন আগের মতো হাটতে পারিনা বাবা। কেমন যেন অসহ্য লাগে, খুব হাফিয়ে উঠি। সারাদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে যা পাই, তা কোনরকম পাকিয়ে খেয়ে শুয়ে থাকি। এখন আর পাকও করতে পারিনা ঠিকমতো। তাই মাঝেমধ্যে না খেয়েই থাকতে হয়। কত মানুষ মরে যাচ্ছে, আমার মরণ আল্লাহ্ কেন দিচ্ছে না বুঝি না! কথাগুলো বলতে বলতে বৃদ্ধের চোখ জলে ভরে উঠেছে। চোখ মুছে জীবনের মাথায় হাত বুলিয়ে 'বেঁচে থাকো বাবা, আল্লাহ্ তোমার ভালা করবেন' বলে লাঠিতে ভর দিয়ে চলে যাচ্ছে বৃদ্ধ ছলিমউদ্দিন। বয়স্ক লোকের এমন করুণ কাহিনী শুনে কখন যে নিজের চোখেও জল গড়িয়ে পড়ছে তা টেরই পায়নি, জীবন নীরবে বৃদ্ধের চলে যাওয়া দেখছে, আর মনে মনে ভাবছে.... এইতো জীবন!!

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

মিষ্ট মুখের মুচকি হাসি

মিষ্টি মুখের মুচকি হাসি আমি বড় ভালোবাসি।।
এজীবন ছাড়তে পারি ছাড়বো না যে তোকে।
এই অন্তরে-
রাখবো তোকে খুব যতনে থাকবি জনম ধরে।।

হাসলে তোর দুই-গালে পড়ে সুন্দর দুটি টোল,
তাইনা দেখে হারাই আমার মনের যতো বোল।।
অবাক চোখে মুগ্ধ মনে।। শুধুই চেয়ে থাকিরে।
এই অন্তরে-
রাখবো তোকে খুব যতনে থাকবি জনম ধরে।।

তুই-যে আমার সন্ধ্যা বাতি পূর্ণিমার ওই চাঁদ,
আপন করে পাইলে মানবো হাজার অপবাদ।।
দেখতে হাসি তোর মুখে।। জীবনটা দিবো লিখে।
এই অন্তরে-
রাখবো তোকে খুব যতনে থাকবি জনম ধরে।।

বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭

আমাকে নিয়ে সনেট লিখেছেন

সনেট কবি বলেছেন: 

কবি নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন

প্রেমপথে আছে কত কন্টক বিস্তর
সে সকল পায়ে দলে প্রেমের উত্থান
ঘটে সব প্রেমিকের অন্তর সাম্রাজে,
তা’বিভাবে? জানা যায় কবির কথায়।
কালে কালে কত প্রেম দেখেছে জগত
হে নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন হে কবি
কবিতার ক্যানভাসে অনিন্দ সুন্দর
এঁকেছেন আপনি সে প্রেমর ভূবন।

প্রেমিকায় পড়ে দৃষ্টি প্রেমিক মনের
কি বেহাল উন্মাদনা কি চিত্র উদ্ভব
হয়ে থাকে, ফুটে সেটা কবিতা বৈচিত্রে।
দক্ষহাতে সে চিত্রের হয়েছে ধারক
দক্ষ এক কারিগর এ কবি নয়ন,
পাঠকের অন্তরেতে সুপ্রিয় সবার।

আমাকে নিয়ে অনেক সুন্দর সনেট লিখেছেন প্রিয় সনেট কবি ফরিদ আহমদ চৌধুরী। কৃতজ্ঞতা প্রশংসায় এই আন্তরিক প্রাপ্তির প্রকাশ সম্ভব নয়। অন্তরে থাকবেন তিনি প্রেরণার জ্যোতি হয়ে। আকাশ ছোঁয়া উৎসাহ আর প্রেরণা দিয়েছেন কবি, আমি উচ্ছ্বসিত, আনন্দের শিখরে।

আপনার এই স্নেহ ভালোবাসা আশীর্বাদ যেন কভু না হারাই এমন প্রত্যাশা সৃষ্টিকর্তায়।

এর উত্তর আমি কিভাবে বলবো প্রিয় কবি! পুড়তে পুড়তে যে নিঃশেষ সবি! এ আমি, আমি নই তারই প্রতিচ্ছবি। সাত বছরের জমানো প্রেম ভেঙেছিল একদিনে! স্তব্ধ হই তখনি, যখন দুচোখে ভেসে উঠে তার মুখোচ্ছবি।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানবেন সবসময়।

মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭

ভাবনায়

কর্ম ব্যস্ত দিনটি শেষে রাত্রি যখন বাড়ে,
মনের ঘরে অস্থিরতা স্মৃতির পাতা নাড়ে।
দুচোখ বুজে হারান সুখ সময় গুলো ভাবি,
হৃদয় জুড়ে তোমারি নাম চন্দ্র মুখের ছবি।

জানিনা তো কোথায় তুমি কিবা এখন কর,
তুমিও কি আমার মতো এমনি ভাবে পুড়ো।
চৈত্র খরা মন ভূমিতে চোখ ভাসে শ্রাবণে,
কেমনে থাকো বন্ধু তুমি হয়না কিরে মনে!

মুক্ত আকাশ মিষ্টি বিকেল তোমার কূলে মাথা,
অনেক সুখে ব্যস্ত দুজন বলতে মনের কথা।
মিষ্টি ও'মুখ দেখে আজো জীবন পাবে প্রাণ,
মিলবে ছন্দ সব কবিতায় ভরবে সুরে গান।

রাত্রি জেগে পূর্ণিমা চাঁদ দেখবো মনে আশা,
ভ্রমর হয়ে খুঁজবো মধু তোমার ভালোবাসা।
দুনিয়া জুড়ে তুমিই প্রিয় সুন্দর গোলাপ ফুল,
মাতাল রবো তোমার প্রেমে করবো কত ভুল।

কতো গভীর ভালোবাসা তোমার জন্য ছিল,
স্বপ্ন সুখের দিনগুলো সব ব্যথায় ভরে গেল।
যেদিন থেকে সব ভুলিয়া তুমিও গেলে দূরে,
ঘুম হারাল সেদিন থেকে আর আসেনা চোখে।

মিষ্টি সুখের ভালোবাসায় ভরবে আমার ঘর,
অনেক দিনের স্বপ্ন চাওয়া এই বুকের ভিতর।
করলে বিফল আশার স্বপন পর হলে পাষাণী,
প্রতি রাতের ভাবনায় তবু মিশেই আছো তুমি।

রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৭

হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে আবার আমি খুঁজছি -মোস্তফা সোহেল

হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে
আবার আমি খুজছি,
হারিয়ে যাওয়ার ব্যাথাটাকে
আবার আমি বুঝছি।।
যে হারিয়ে যায়-
সে তো আর আসে না ফিরে।।
জীবনের পদচারনায় সেতো শূন্য,
সেতো শূন্য- সেতো শূন্যই থেকে যায়।।

এখন আর রাত জেগে হয়না দেখা 
ওই আকাশের চাঁদ তারা,
জীবন আমি আর ভাবতে পারিনা
কিছুতেই তুই ছাড়া।।
তুই ছাড়া মন আমার ভরা শুধু শূন্যতায়।
সেতো শূন্য- সেতো শূন্যই থেকে যায়।।

কতনা প্রহর আমার কেটেছে
শুধুই তোর জন্য,
ভাবতে পারিনি এই জীবনে
তুই ছাড়া কিছু অন্য।
শেষমেস জীবন আমার ভরা শুধু শূন্যতায়।
সেতো শূন্য- সেতো শূন্যই থেকে যায়...।।

হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে
আবার আমি খুজছি,
হারিয়ে যাওয়ার ব্যাথাটাকে
আবার আমি বুঝছি।।
যে হারিয়ে যায়
সে তো আর আসে না ফিরে।।
জীবনের পদচারনায় সেতো শূন্য,
সেতো শূন্য- সেতো শূন্যই থেকে যায়।।

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭

কেমন আছো বন্ধু.... গান : নয়ন

কেমন আছো বন্ধু....?
মনে কি হয় না আমায় একটিবার !!
অথচ কথা ছিল, আসুক বাঁধা যতো,
তুমি আমি কখনো নই হারাবার।।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

এইতো সেদিন তুমি মিথ্যে অভিমানে,
পেরিয়েছ চিরতরে আমার সীমানা।
কতদিন মাস গেল বছর যুগের পরে
অর্ধ যুগ! তোমার চাঁদমুখ দেখিনা।।
প্রতিটি প্রহর জুড়ে, কতটা কষ্টে পুঁড়ে
নিঃস্ব মন! না থাকুক কেউ দেখার।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

কতনা ব্যাকুল ছিলে দেখতে আমাকে,
বিশ্বাস সুখ স্বপ্ন ছিল তোমাতে জমা।
সুখের ভুবন আমার ডুবছে অন্ধকারে
দুঃখবোধ! সেদিন থেকে কেউ বোঝেনা।।
এভাবে কতদিন, সুধী প্রেমের ঋণ
কষ্ট-প্রহর, বড় সাধ জাগে জানার।
কেমন আছো বন্ধু, জানিয়ে যেও শুধু,
নাই'বা নিলে তুমি খবর আমার।।

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭

সূরা আসর

বাংলা উচ্চারণঃ
(১) ওয়াল আসর

(২) ইন্নাল ইনসানা লাফি খুসর

(৩) ইল্লাল-লাজিনা আমানু 
ওয়ামিলুছ ছালিহাতি 
অতাওয়া ছাওবিল হাক্কী 
অতাওয়া ছাওবিছ ছবর।

বাংলা অনুবাদঃ
(১) কসম সময়ের

(২) নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

(৩) তাঁরা ব্যতীত, যারা ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে
এবং পরস্পরকে হকের (সত্যের) দাওয়াত ও ছবরের উপদেশ দিয়েছে।

সংগ্রহ ঃ নাবিক সিনবাদ  'সামহোয়্যার'

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭

বড় ভুল- ও দুঃখ বুঝার মানুষ নাই (গান)

বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে

স্মৃতির পাতা মেলে, মনের দোয়ার খুলে,
তোমার মুখোচ্ছবি দেখছি।
শুভ্র মেঘের ডানায়, ভেসে ভেসে আজো আমি,
তোমার ছবিটি আঁকছি।।
তুমি পূর্ণিমা-চাঁদ হয়ে, আকাশ আলো করে,
আমার দিকে চেয়ে হাসো।
মুক্ত ঝরা হাসি, কত যে ভালোবাসি,
তুমিও কি আজো ভালোবাসো।
কত সুখের দামে, গেলে আমায় ভুলে...!! 
মিলেনা সে হিসেব কোনভাবে...!
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে!!

নীরব রাত্রে ওগো খুলে বাতায়ন,
আকাশ জুড়ে দেখি তোমার কিরণ।।
মনের রাজ্য জুড়ে, তুমিই রূপের রাণী...।।
সুখের ছোঁয়া আজো অনুভবে...।
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে !!

শূন্যতা ঘিরে আজ আমার জীবন,
এর চেয়ে ভালো যদি হয় গো মরণ।।
কতভাবে কতদিন, আমার বুকে মিশে...।।
বেঁচে থাকার স্বপ্ন-আশা দিতে...!
বড় ভুল- করেছিলাম তোমায় ভালোবেসে!!

____

দুঃখ বুঝার মানুষ নাই

আমি যার কাছে যাই বলবো দুঃখ!!
সবাই বলে সময় না-ই!
কর্ম মন্দ, কপাল পুঁড়া
দুঃখ বুঝার মানুষ না-ই!!

ছিল আমার সুখের একটা ঘ-র
ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল
দুই জনার অন্তর।।
শূন্য ঘরে একলা আমি।।
চোখের জলে বুক ভাসাই!

বন্ধু যদি হইত গো আমা-র
পূর্ণিমাচাঁদ বইত ঘরে
থাকতো না অাঁধার।।
সেই-তো ছিল সন্ধ্যা বাতি।।
সুর করে ডাকতো কানাই।

বইছে বুকে কালবৈশাখী ঝ-ড়
কি বুঝিয়া পাষাণ বন্ধু
করলো আমায় পর।।
নয়ন বলে থাকবে তুমি।।
মিশে আমার কলিজ্বায়।

এই গানটির সুর মিলাতে না পারায় নিচের কবিতাটির জন্ম হয়েছিল।

মনের মানুষ কোথায় পাই

আমি বলবো কি আর 
কার কাছে যাই!! 
সব লোকে কয় সময় নাই!
বুকের ভিতর জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

ছিল আমার সুখের একটা ঘর
ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ 
স'দায় দুই অন্তর।। 
শূন্য ঘরে একলা আমি...।।
চোখেরজলে বুক ভাসাই।
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

বন্ধু যদি হইতো-গো আমার
পূর্ণিমারচাঁদ থাকতো ঘরে
মুছিত সব আঁধার।।
সেই'তো ছিল সন্ধ্যা-বাতি।।
মনসুখে ডাকতো কানাই। 
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!!

হৃদয় জুড়ে কাল-বৈশাখী ঝড় 
কি বুঝিল প্রাণের বন্ধু
করলো আমায় পর।।
নয়ন বলে থাকবে তুমি।।
মিশে রক্তকণিকা'ই।
বুকের ঘরে জ্বলছে আগুন
মনের মানুষ কোথায় পাই!! 

শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭

ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর

শুনরে আহম্মকের দল তোর নিজের খবর রাখ,
কেন অন্যকে করতে বশ্য সামনে ধর্ম দাঁড় করাস!
সেতো যারযার পূজনীয় শ্রদ্ধেয় অন্তরের বিশ্বাস,
তুইতো মানুষ খোদা নোস কেন মনের খবর চাস!

ধর্মের দোহাই দিয়ে কেন মানুষে করিস বিভাজন,
সবার আগে মানুষ সত্য, মমতায় করে-নে স্বজন।
মানুষের মাঝে আছে তোর ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর,
স্রষ্টাকে খুঁজতে যাবি কোথা ধর-রে তুই মানুষ ধর।

মিছেই করিস'না ভণ্ডামি ধর্মকর্ম মনে শিহরন,
মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি উত্তম বিচার বিচরণ।
মানুষে রাখিস ভালবাসা দশে করবে অনুসরণ,
মানবিক গুণাবলী ধ-র সবুজ রাখ অন্তর মন।

খোদার মহব্বতে মানুষ ভুলে করিস তুই আঘাত,
প্রথম পরিচয় ভুলিস সামনে আনিয়া ধর্ম-জাত!
খুঁচা মেরে পরের বিশ্বাসে লুকাস তুই নিজ স্বভাব,
পুষা জানোয়ার যেন তুই মানুষকে কুপাস পুড়াস।

তোদের মত ভণ্ড ধার্মিক যুগে যুগে নিস কত প্রাণ,
তিলকে তাল করিস তরা বাড়াস সমাজে ব্যবধান
ধর্ম লড়াইয়ে কত মা'র শূন্য বুক আজো রক্তপাত
এইকি ধর্মের ফল ভবে মিথ্যে যুদ্ধে দিতে হয় জান

আয়রে তোরা রাখ বিশ্বাস ধর্মের শক্তিকেন্দ্র অন্তর
মানুষের মাঝে প্রেম খোঁজ সৃষ্টিতে স্রষ্টা পাবি খবর
প্রিয়র প্রিয়কে বাস-ভালো শ্রদ্ধা রাখ মনের ভিতর
মানুষের মাঝে পাবি জানি ভগবান আল্লাহ্ ঈশ্বর।