মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮

ঘুম আসে না একলা রাতে

ঘুম আসে না- একলা রাতে।।
তোমারি ভাবনা, নিশিত একেলা
বিরহ যাতনায় ভরে মন;
তুমি আজ কতো দূরে,
হয়'তো গিয়েছো ভুলে,
তবু কেন কাঁদে দুনয়ন।।

একটি নাম-ই দমে দমে আসে,
চোখের পাতায় শুধু ও'মুখ ভাসে।।
হারানোর বেদনা, কতদিনের কথা,
মরু মরু-বুকে ভাসায় শ্রাবণ।
তুমি আজ কতো দূরে,
হয়'তো গিয়েছো ভুলে,
তবু কেন কাঁদে নয়ন।।

এ'কেমন কষ্ট তুমি দিলে বলো,
সাজানো জীবন আজ এলোমেলো।।
বিষণ্ণ তুমি ছাড়া, দুচোখে জলধারা,
ভালো হতো যদি দিতে মরণ।
তুমি আজ কতো দূরে,
হয়'তো গিয়েছো ভুলে,
তবু কেন কাঁদে নয়ন।।

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮

কতনা চোখের জল ঝরালে তুমি

কতনা চোখের জল ঝরালে তুমি,
তবুও তোমাকে ভুলতে পারিনা।
অনেক পুড়েছি তোমায় ভালবেসে,
বিনিময় পেয়েছি শুধু ছলনা।

পুড়ে পুড়ে জেনেছি সোনা খাঁটি হয়,
বিরহের আগুনে পুড়ে প্রেমিক হৃদয়।
আগের মতই আছো এই জীবনে,
চাই না কিছুই আর তোমাকে ছাড়া।

ভুলবো কি করে তুমি জীবনের প্রাণ,
তুমি ছাড়া পৃথিবী মনে হয় শ্মশান।
মনের আকাশে চাঁদ সূর্য তুমি,
তপ্ত দেহ বুকে চৈত্র খরা।
কতনা চোখের জল ঝরালে তুমি
তবুও তোমাকে ভুলতে পারিনা।

গান : কতনা চোখের জল ঝরালে তুমি
কথা : নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন


How many tears do you have,

Still you can not forget

Many burns you love,

The exchange is just a fraud.


Burned burnt, the gold is authentic,

Burning heart of Berhor burns

As in the past, in this life,

Do not want anything else except you


Forget how you are the life of life,

Without the world you feel the cremation.

Moon in the sky of the moon,

The body of the fat cat chaitra drought.

How much tears do you have

Still you can not forget


Song: How many tears do you have in the rain




কে জানে আমি ছাড়া

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা পেরিয়ে এসে
রাতের শূন্য বিছানায়,
শূন্যতা ঘেরা মনের আকাশ জুড়ে,
স্বপ্ন'রা সব ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের মতো,
নিথর দেহ-মনের আঙিনায়।

হৃদয়ের ছটফটানি আর বুকের দহনে,
অনেক রাত ভোর করেছি নির্ঘুম,
ঘুমহীন চোখজোড়ার কোণ বেয়ে,
গড়িয়েছে কতো গাঢ়তর অশ্রুজল;
তবুও কল্পনার সিঁড়ি মাড়িয়ে তোমারি আগমণ,
কে জানে আমি ছাড়া- ঘুমে মগ্ন রাত্রি নিঝুম।

উষ্ণতায় ভরে উঠে চারিপাশ,
বারবার শিহরিত হতে থাকে দেহমন কাঙ্ক্ষিত সুখে;
যুগল বক্ষস্থে ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ,
রুদ্ধ মাতাল ঠোট জোড়া তোমার ওই কম্পিত ঠোঁটে,
বন্ধ দুচোখে শিকল বাহুদ্বয়ে তৃপ্ত কতনা রাত।

কে জানে আমি ছাড়া
       _নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন

__
Who Knows Without Me
  __Naim Jahangir Noyon

Coming out of business hours
Night bed,
Emptiness surrounds the sky of the mind,
Dreams are all like a white cloud,
The frozen body-minded courtyard.

Heartache and chest in the chest,
I slept many nights in the morning,
By the angle of sleeping eyesight,
How many dark tears have spread;
Still, you came to your imagination,
Who knows without me - sleeping in the night is nighu

Warmth, fourpus,
They are constantly thrilled and are happy;
The sound of loud breath in the pair,
Pull your drunk lips into the shaking lips,
How many nights are satisfied with the chase away in a chain?

রবিবার, ৮ জুলাই, ২০১৮

আমারও মন চায়

তোমার স্ট্যাটাস দেখেই বুঝতে পারছি
ও'মনে আজ বৈশাখী ঝড়,
হৃদয় জুড়ে অস্থিরতা, সর্বাঙ্গে যেন বিঁধছে কাঁটা।
কিসের এত কষ্ট তোমার বুকের ভিতর,
দিয়েছো কি মন সে পাষাণ লয় না খবর!!
মনের কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখি হাসি দিয়ে,
কেউ বুঝতেই পারেনা
বুকের ভেতর আগ্নেয়গিরির দহন জ্বালা।
এমন কিছু কষ্ট বুকে চেপে রেখেছি
যা কাউকে বলতে পারিনা,
আসলে বলার মতো
একজন বন্ধুর সন্ধান মিলল না কখনো।

ভাবতে পারো বন্ধু তুমি বলতে মনের কথা,
আদরে সোহাগে তোমার ঘুচবে সকল ব্যথা।

সবাই কি সবকিছু ভুলতে পারে!!
কিছু আঘাত গেঁথে যায় হৃদয়ে,
যতই পুরাতন হোক তা ফিরে ফিরে আসে।
নিশিত একেলা জাগি শূন্য মোর বিছানা,
বুকের মাঝারে তুমি দুচোখে স্বপন রঙিলা!
চাঁদ যদি মোর হইতে বন্ধু মাঝরাতের আকাশে,
ঘুম ভাঙিলেই ভরাইতে মন মধুর প্রেম আলাপে।

এমন গরম দিনে
কাঠফাটা রোদ্দুরে পূবাল হাওয়া,
তপ্ত দেহ-মনে তোমার কোমল স্পর্শ পাওয়া।
বন্ধু তুমি শীতের কাঁথা গরমকালে শীতল পাখা,
বুকের সাথে বুক মিলিয়ে করতে নিশিভোর;
আজও এ'মন তোমায় খুঁজে, আবেগে বিভোর।
বিকেলের সোনা ঝরা রোদ্দুর মেখে গায়,
কতনা প্রহর কাটিয়েছি দুজন নির্জন নিরালায়।

ভেঙে ফেল বন্ধু তোর মৌন দেয়াল,
আছি তোর স্বপ্নে বিভোর হইসনা বেখেয়াল।

আমারও মন চায় তোমার পাশে বসে
প্রিয় মুখটির দিকে চেয়ে থাকি অপলক,
মেঘ-কালো দীঘল চুলে বুলাই হাত,
গভীর ভালোবাসায় চুমো দেই
ওই কাজল-কালো চোখের পাতায়।

রবিবার, ৩ জুন, ২০১৮

তোমার জন্য

তোমার জন্য'ই হয়তো এসেছিলাম পৃথিবীতে,
সেজন্য বুঝি হয়েছিল দেখাসাক্ষাৎ দুজনাতে।
কতনা অসাধ্য ছিল, কমতো ছিলনা অপবাদ,
মিশেছি তবুও-মিটিয়েছি জীবনের যতো-স্বাদ।
বুঝেছি প্রেম-ভালবাসার আবদার যতো-ইচ্ছে,
স্বর্গীয় সব মুহূর্ত'ই আজ যেন রূপকথা-কিচ্ছে।

যখন ডুবে যাই নীরবতায় দ্বার খুলে ভাবনার,
ভেসে উঠে স্মৃতিপট দুই চোখে স্রোত কান্নার।
কেন কোন আশা মিছে বেঁচে থাকা-যুক্তিহীন,
বিষাদের কারণ হয়েছি সবার-যেন ভিত্তিহীন।
ভেসে গেল সবই আমার, বুকে ব্যথা চিনচিন,
ফিরবে না আর ভাবলে জ্বালা বাড়ে দিনদিন।

নিজেকে পুড়িয়ে-ও খুঁজে পেয়েছি সুখ তখন,
অনুভূতি দেখেছি তোমাতে-আমার প্রয়োজন।
ভেবেছিলাম সার্থক জন্ম হে-প্রিয়জন শোনো,
তোমা ছাড়া বড্ড একা-প্রয়োজন নাই কোনো।
অথচ দেখো ভাগ্যের পরিহাস-কী অমানবিক!
বৃথাই হলো জন্ম-নিষ্ফল ছোটে চলি দিক্বিদিক।

রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

মাগো তোমার হয়না তুলনা

মা'গো তোমার হয়না তুলনা পৃথিবীর কোন প্রেমে,
স্বপ্ন আশা ভালোবাসা হয়ে থাকবে মোর অন্তরে।
স্বর্গ যেনো পাই খুঁজে মা তোমার হাসি মুখে,
চোখ জোড়ান মন ভুলান মিষ্টি মধুর শাসনে।

কতো হাসি কান্নার ছলে বায়না করি আদায়,
কতই কষ্ট ব্যথা দেই মা কতদিন কত কথায়!
হাসি-মুখেই করছো বারণ করতে সকল অন্যায়,
পাহাড় সম ব্যথা ভুলি মা তোমার স্নেহ মায়ায়।

মা'গো তুমি ধনগৌরব আমার সুখ সমস্ত,
সামান্য অসুখ সর্দি জ্বরে সেবায় তুমি ব্যস্ত।

____
মা'গো তুমি ধনগৌরব
আমার সুখ সমস্ত,
সামান্য অসুখ সর্দি জ্বরে
সেবায় তুমি ব্যস্ত।

জনমদুখি পৃথিবীর বুকে
মা নাই যার ঘরে,
সে'বোঝে মা কতটা একা
কতো ব্যথা অন্তরে।

স্বর্গ যেনো পাই খুঁজে মা
তোমার হাসি মুখে,
চোখ জোড়ানো মন ভুলানো
মিষ্টি মধুর শাসনে।

কতো হাসি কান্নার ছলে
বায়না করি আদায়,
কতই কষ্ট ব্যথা দেই মা
কতদিন কত কথায়!

যেদিন তুমি থাকবেনা মা
থাকবেনা মোর পাশে,
সেদিন কেমন বাঁচবো আমি
তাই ভাবি দীর্ঘশ্বাসে।

হাসি-মুখেই করছো বারণ
করতে সকল অন্যায়,
পাহাড় সম ব্যথা ভুলি মা
তোমার স্নেহ মায়ায়।

মা'গো তোমার হয়না তুলনা
পৃথিবীর কোন প্রেমে,
স্বপ্ন আশা ভালোবাসা হয়ে
থাকবে মোর অন্তরে।

শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮

মনি

তোকে হারানো ব্যথা আব্বা আম্মার মনে কতোটা দুঃখের, এ যে কি পরিমাণ বেদনাময় কষ্ট, কতটা মর্মাহত তারা তা বুঝেছিলাম সেদিন যখন আব্বা আমাকে বোঝিয়ে বলতে গিয়ে 'কতো কইছিলাম' পর্যন্ত বলে বুকফাটা কান্নায় কথা জড়িয়ে গিয়েছিল গলায়, আর কিছুই বলতে পারলো না, ডুকরে ডুকরে কাঁদছিল আব্বা বিছানায় গড়াগড়ি দিতে দিতে। আমি সে কান্নার গভীরতা অনুভবে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম, হার্ডফেল-স্ট্রোক-এর ভয়ে নিজেকে সামলিয়ে সেদিন শান্তনা দিতে চেয়ে নিজেও কেঁদে ফেলেছিলাম, বুকফাটা চিৎকার চেপে রাখতে গিয়ে মনে হয়েছিল এই বুঝি আমারও দমটা আটকে গেল!
আম্মা কথা বলতে বলতেই কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছে বুক। বেশ কিছুদিন যাবত আম্মার মনটা দেখছি অনেক ভার, এখন আর তোকে হারানোর ব্যথা হৃদয়ে চেপে রাখতে  পারেনা মনে হয়। কেমন যেন চমকে চমকে উঠে মাঝেমধ্যে, খুব দুর্বল মানসিক অবস্থা। কেমন যেন নিরাশ চাহনি চোখ জুড়ায় স্পষ্ট। আমি দেখি, বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারিনা, আমার চোখে যেনো যমুনার স্রোত ধাক্কা দিয়ে যায়, আমি কিছুই বুঝতে দেইনা আব্বা আম্মাকে। নিজে নিজে ভাবতে থাকি বাবা-মা'র মানসিক অবস্থা, কতটা বেদনাময় তাদের বর্তমান সময় গুলো।

কোন বাবা-মা'র মনে মানে যদি তোর মতো যোয়ান ছেলে অকালে হারায় তবে! এমন যুবক ভাইয়ের অকাল ঝরে পড়া যেকোনো বড় ভাইয়ের মনে শূন্যতা তৈরি করবে, আমার বেলায়ও ব্যতিক্রম হয়নি।
আমি দুনিয়ায় বড় একা হয়ে গেছি, চারিদিকে তোর শূন্যতা, আমাকে অনেক আহত করে যায় মাঝেমধ্যে।

ক্ষণেক্ষণে মনে পড়ে, বুকের ভিতর যেন শুরুকরে দেয় মহাপ্রলয়ের ঝড়, আমি ভেঙে যাই, আমি স্তব্ধ-বিস্মিত বদনে নিজেকে সামলাই, বেদনার্ত দীর্ঘশ্বাসে। ভাই আমার পৃথিবীর বুকে আর দিবে না সাড়া কোনদিন কোন কালে!

আল্লাহ্ তোর সহাই হোক'রে ভাই, তোর ভোল সব করেদিক ক্ষমা, বেহেশত-এ যেন করে দেন ঠাই।

২-১০২০১৮ইং সকাল পর্যন্ত পূর্ণ করেছিল আমার অন্তর-পরিবার। ভালো থাকিস ভাই, মনে করিস তোর রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিচিহ্ন 'মৃদুলা' আমার মা।

আজ ভাতিজা রুবেল এর পোষ্ট দেয়া ছবি-কথা'তে কিছু  বলতে গিয়ে আর নিজেকে চেপে রাখতে পারলাম না। ভুলে থাকার চেষ্টায় প্রকাশ করিনি কোথাও এতদিন, নিজের ভাই হারানো কষ্টের তীক্ষ্ণ আঘাতে জড়-জড়িত হৃদয়ের আর্তনাদ, চেপেই রেখেছিলাম মনের ভিতর, কাউকে বুঝতে দেইনি।
কে আর খোঁজে-বোঝে, পৃথিবীতে কে নেয় কার মনের খবর। তাছাড়া সম্ভবই হয় না যদি হাসিমাখা থাকে সে'মুখ। কিন্তু আজ আর লুকিয়ে রাখতে পারলাম না।
প্রথম অনলাইনে প্রকাশ করলাম ভাই হারানো বর্তমান সময় গুলোর কিছুটা নির্মমতা। স্মৃতি হয়ে থাকুক।

এখন পরিবারের সবার মতো আমারও কামনা 'হে আল্লাহ্! তুমি ভাইটির সহায় থেকো, তোমার রহমত থেকে করোনা কভু বঞ্চিত।

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৮

আসবে কি সে

আজ সকালে হবে কি সেই সূর্য দেখা,
অনেক আশা স্বপ্ন সে যে মন বাসনা। 
ইচ্ছে সকল হচ্ছে জড়ো তাকেই ঘিরে,
আসবে কি সে আলোর মতো সুনয়না!
নিশিত জাগি স্বপ্ন বুনি একলা ঘরে
প্রভাত সূর্য দেখবো নিয়ে প্রিয়তমা;
শিশির ভেজা ঘাস পাড়িব খালি পায়ে, 
স্বপ্ন কথা বলবো ঘুচবে নীরবতা।

চন্দ্র হয়ে রইছে গাঁথা মনের ঘরে,
সূর্য হয়ে তাপ ছড়ায় সে অপরূপা।
তাকে নিয়েই আমার যতো গল্প সুখে,
হৃদয় মাঝে স্বর্গ যে তার ভালোবাসা।

অমৃত সুখ লাগে যেনো তার ছোঁয়াতে,
অন্ধকারে ডুববে ভুবন তাকে ছাড়া।

শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮

আমি আজ বড্ড অনুভূতিহীন

'সুখ', বড়ই কঠিন সাধ্যসাধন,
কারো কারো জন্য অসাধ্যই থেকে যায়,
অনেকটা ভাগ্যও বলা যেতে পারে।
যদিও ভাগ্য বলতে আমি কর্ম-কেই বুঝি ও মানি,
তারপরও আজ কেন যেন মনে হচ্ছে-
সুখ প্রেম বন্ধুত্ব আর বিবাহ আল্লাহ্ প্রদত্ত বিষয়।
কেউ চাইলেই করতে পারেনা সুখের সাথে বন্ধুত্ব!
আমার মনে হচ্ছে 'সুখ' সবার ভাগ্যে লিখা থাকেনা,
কারো কারো ভাগ্যে সুখই লিখেননি আল্লাহ্।

কিছুকিছু মানুষ দুঃখ আর কষ্টের সাথে
যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার জন্যই পৃথিবীতে জন্মায়,
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা কখনওই জয়ী হতে পারেনা;
জয় নামের প্রাপ্তিটি তাদের যেন
সারাজীবনই থেকে যায় খুব শক্ত প্রতিপলক্ষ,
হাজারবার চেষ্টা করেও মিলে না সুখ-বিজয়,
বারবার পরাজয়ের তীক্ষ্ণ আগুনে পুড়তে হয় তাদের,
পুড়ে পুড়ে ছাই করতেই হয় তাদের
অন্তর নামের অনুভূতিশীল অদৃশ্য অঙ্গজ; আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভার মতো
নিঃসৃত হতে থাকে চোখদুটি,
বিরামবিহীন প্লাবণে প্লাবিত হতে থাকে বক্ষ ভূমি! আমিও তাদের দলের একজন।
যার জীবনের প্রতিক্ষণ কাটে
দুঃখকষ্ট নামের কঠিন প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধে,
বেঁচে থাকতে হয় পরাজয়ের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে।

যতবার সাজাতে চেয়েছি নিজেকে
নতুন কোন সুখের আশায়,
ততবার চাওয়াগুলো
হারিয়ে গেছে কোননা কোনো নতুন ঝড়ে!
তাই তো মনের ভিতর জ্বলতে থাকা
দহন আর নিভাতে পারিনি দুই সাগরের জলেও!
আমার স্বপ্নরা সব
একেক করে সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে যায়,
নীরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গন্ধ শুকি হৃদয় পুড়ার;
আর কোনো স্বপ্ন আমার কাছে আসেনা,
আমি আজ স্বপ্নহীন।
সুখানুভব কেমন তা ভুলেই গেছি হয়তো....!
মন অন্তরের সাথে সাথে
অনুভূতি নামের ইন্দিয়টিও পুড়ে যেন কয়লা;
এখন আর কোনকিছু আমাকে শিহরিত করেনা
আমি আজ বড্ড অনুভূতিহীন।

অনেক যতনে, তিল তিল করে স্বপ্ন জড়ো করে
গভীর ভালোবাসায়
এই বুকটার ভিতর গড়েছিলাম প্রেমের তাজমহল!
আমার মমতাজ স্ব'হাতে সেই মহলে
আগুন ধরিয়ে অন্যের বুকে বেঁধেছে বাসা,
আমার ঘর পুড়িয়ে অন্যের ঘরে জ্বালায় সন্ধ্যে বাতি!
আমার ভিতর বাহির নিকষকালো আঁধারে ঢাকা,
কূল হারা অথৈ সমুদ্রে ভেসে চলেছি শেঁউড়ার মতো,
কোন স্থিরতা নেই,
কোথাও মিলেনি ঠাই ল্যম্পপোষ্টের ন্যায়...!
ভবঘুরে মনটার জুটল না আজও নতুন ঠিকানা!
আমার দুনিয়া আজ অস্থির,
উম্মাদ ট্যাগ দিয়ে ছুড়ে ফেলতে চায় আমাকে!
এই বুঝি হায় প্রেমের ফল....!
ভালোবাসা কেঁড়ে নিল সুখ- জাতিকুল মান,
বেদনার আগুনে পুড়েই চলেছে এই বুক নিরন্তর।

সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

নিভে না দুই সাগরের জলেও

আমার প্রহর গুলো সব আজ
বেদনার স্রোতে ভেসে ভেসে বড্ড ক্লান্ত।
আহ! কি যে কষ্ট এই বুকটার ভিতর....!
নয়ন সাগর দুটিতে যেন সুনামির বাঁধভাঙা ঢেউ,
বারবার তীর ছাপিয়ে হৃদয়ের চারণভূমি করছে প্লাবিত।
স্থির দৃষ্টি আকাশের নীল ভেদ করে প্রিয় মুখপানে,
যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে সময়....
দিক্বিদিক ছোটাছুটি করছে অশান্ত এই মন-
স্বজন হারিয়ে আজ গভীর শোকগ্রস্ত।

হায়রে স্বজন হারানো কষ্ট.....!
কোন সুনামি তোকে আর নিতে পারেনা ভাসিয়ে,
তোর ভার যেন বেশি পৃথিবী থেকেউ....!

মৃদু বাতাসে দোলে হৃদয়ে জমে থাকা দুঃখ গুলো।
প্রিয়জন হারানোর ব্যথা-
কেবল, বাতাসের মতো করে গতির পরিবর্তন,
এক জীবনে আর বুঝি হয় না শেষ কখনো।

বুকের ভিতর জ্বলতে থাকা আগুন-
বাতাসের তালে তালে বাড়ে আবার কমে,
কখনোবা দাবানল হয়ে-
জ্বালিয়ে দিয়ে যায় অবশিষ্ট সুখ টুকুনও...!
মনের এই আগুনজ্বলা হায়...
নিভে না দুই সাগরের জলেও।।